বাংলাধারা প্রতিবেদন »
চারদিকে ভুয়া ডিগ্রিধারী ডাক্তারের ছড়াছড়ি। বাড়ছে তাদের সীমাহীন দৌরাত্ম্য। বিভিন্ন নামের বাহারি ডিগ্রি ব্যবহার করে চকচকে সাইনবোর্ড সেঁটে নিরীহ ও সাধারণ রোগীদের প্রতারিত করে আসছে তারা। ফলে জনস্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এক চরম অরাজকতা বিরাজ করছে। প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুয়া ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার খবর মিলছে। দেশজুড়ে এই অবস্থা এখন উদ্বেগজনক। সম্প্রতি হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট এলাকার ডি সি রোডের মহাজন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ভুয়া ডাক্তারের অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সেই সাথে অভিযান পরিচালনা করে ক্লিনিক বন্ধ করার পাশাপাশি ভুয়া ডাক্তারদেরকে করা হয়েছে জরিমানা।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১১ ঘটিকা থেকে বেলা ১ ঘটিকা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।

রুহুল আমিন বাংলাধারাকে জানান, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট এলাকার ডি সি রোডের মহাজন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। অভিযানের সময় দেখা যায় বিভিন্ন ব্যক্তি নিজ নামের সাথে ডাক্তার পদবী জুড়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন। এম বি বি এস ডিগ্রী না থাকা সত্ত্বেও মেডিসিন, প্রসূতি, মহিলা রোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, সাধারণ সার্জারী ইত্যাদি শব্দ যোগ করে চিকিৎসা করে আসছেন। কেউ আবার টেকনিশিয়ান হয়েও ‘মহিলা দন্ত চিকিৎসক ‘ পদবি ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। কেউ আবার পূর্বে আয়া হিসেবে কাজ করেছেন এখন প্রসূতি পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন চেম্বার খুলে এবং নিয়মিত ডেলিভারি করে আসছেন। ফলে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
তিনি আরো বলেন, এসময় ভূয়া ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে প্রতারণা করার অপরাধে বাংলাদেশ মেডিসিন এবং ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর ২৯ ধারায় এম ফয়েজ আহমেদ মিলন ও রাজিয়া সুলতানা পিংকি কে ২৫০০০ করে মোট ৫০ হাজার জরিমানা করা হয়। মমতাজ কামালকে ১০ হাজার এবং মীরা মল্লিক কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় তিনটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয়।
অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ইমতিয়াজ সহ অন্যান্য চিকিৎসক রা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া হাটহাজারি মডেল থানার এস আই লিটন এবং জাহাঙ্গীর উপস্থিত থেকে সহায়তা করেন বলে জানান তিনি।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












