১৭ মার্চ ২০২৬

হারিয়ে যাবে পটিয়ার ১৩০ বছরের পুরনো মসজিদ

গিয়াস উদ্দিন, পটিয়া »

পটিয়া সদরের আল্লাই-ওখাড়া ঐতিহ্যবাহী হাজী আনোয়ার আলী চৌধুরী জামে মসজিদ ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ১৩০ বছর আগে এ মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এই ১৩০ বছরের প্রাচীন মসজিদ সহসা আর দেখা যাবে না।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক খুব দ্রুত চার লেন করার কাজ শুরু করবে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সড়ক সম্প্রসারণের কাজের জন্য ১৩০ বছরের প্রাচীন এই মসজিদটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বর্তমান মসজিদের পাশে পটিয়া মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স করছে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে।

২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শাখাওয়াত হোসেনের স্বাক্ষরিত পরিপত্রের মধ্যমে পটিয়া মডেল মসজিদের জায়গা নির্ধারণ করার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই তৎকালীন পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলটন রায় উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী টিপু ও ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম জলির উপস্থিতিতে হাজী আনোয়ার আলী চৌধুরী জামে মসজিদের পাশে পুকুর ভরাট করে মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবিত হয়।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসানের সুপারিশ অনুমোদন হওয়ার পর আল্লাই-ওখাড়া হাজী আনোয়ার আলী চৌধুরী জামে মসজিদের পুকুর ভরাট করে মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

জানা যায়, হাজী আনোয়ার আলী চৌধুরী জামে মসজিদের কাগজপত্র মতে ১৮৯২ সালে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মসজিদটি পরিচালনার জন্য তৎকালীন পটিয়ার জমিদার হাজী আনোয়ার আলী চৌধুরী ৪৩ একর সম্পত্তি দান করেন। ‘হাজী আনোয়ার আলী চৌধুরী ওয়াকফ এস্টেট’ নামে ১৯১১ সালে ওয়াকফভুক্ত করে দেন। পরর্বতীতে হাজী আনোয়ার আলী জামে মসজিদ পটিয়ার আশপাশে ঐতিহ্যবাহী মসজিদ হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য দূর দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করার জন্য ছুটে আসতো।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিনের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, সভাপতি হিসেবে না সাধারণ মুসল্লি হিসাবে মনে করি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। এ ঐতিহ্যবাহী হাজী আনোয়ার আলী জামে মসজিদটি সংরক্ষণ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদ না ভেঙে সংরক্ষণ করে রাখা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

আরও পড়ুন