রাউজান প্রতিনিধি »
দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র, বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীর শাখা খালে ভেসে উঠেছে ১২০ কেজি ওজনের মৃত ডলফিন।
১৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৫ টার দিকে রাউজান পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ গহিরা এলাকার বুড়িসর্তা খালে ভাসতে থাকা মৃত ডলফিনটি দেখেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, হায়দার আলী নামের স্থানীয় যুবক ডলফিনটিকে খালের পাড়ে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ডলফিনটির মুখে কোরবানির পশুর বর্জ্য (গরুর নাড়ি-ভুড়ি) আটকানো ছিল। ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। ডলফিনটিকে টেনে খালের পাড়ে নিয়ে এসেছিলাম। সংশ্লিষ্ট কারো সাড়া না পাওয়ায় পচা ডলফিনটাকে আবার ভাসিয়ে দিয়েছি।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘বড় আকৃতির একটি গাঙ্গেয় ডলফিন ভেসে উঠেছে জানতে পেরে তথ্য সংগ্রহ করতে এসেছি।
তিনি আরো বলেন,‘মৃত ডলফিনটি অনেক বড় আকৃতির। হালদায় এর আগে এত বড় ডলফিন মারা যায়নি। আমি স্থানীয় এক লোক দিয়ে ডলফিনটির ওজন ও দৈর্ঘ্য নিরূপণ করি। মৃত ও প্রায় গলিত এই ডলফিনটির ওজন প্রায় ১শ ২০ কেজি এবং এর দৈর্ঘ্য ৮.৫-৯ ফুট। ডলফিনটি পচে যাওয়ায় মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা বা জানা সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরো বলেন ‘এ পর্যন্ত (রাত ৮টা) পর্যন্ত ডলফিনটি রাউজানের বুড়িসর্তা খালে ভাসছিল। কেউ উদ্ধার করেনি। এটি উদ্ধার করার দায়িত্ব বন বিভাগ কিংবা উপজেলা প্রশাসনের। ডলফিনটি আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে আনার সুযোগ নেই। কারণ এটি গলিত। এটি উদ্ধার করে এখন মাটিচাপা দেয়া দরকার।’
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সামাদ সিকদার রাত ১১টার দিকে বলেন, এটি পৌরসভার মধ্যে পড়েছে। ইতোমধ্যে আমরা উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ডলফিনটি পচে যাওয়ায় মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।
জানা যায়, গত ২০১৭ সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই পর্যন্ত হালদা ও তার সংযুক্ত খালে ৩৬টি ডলফিন নানা কারণে মারা গেছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ডলফিনের এই প্রজাতিটিকে অতি বিপন্ন (লাল তালিকাভুক্ত) হিসেবে চিহ্নিত করেছে।












