চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন মহল থেকে চাপ, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে সোমবার রাতে আবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
চুয়েটের বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে স্বাধীনতা চত্ত্বরে জড়ো হন। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নেয়। মিছিলটি স্বাধীনতা চত্ত্বর থেকে যানবাহন শাখা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে চুয়েটের আবাসিক এলাকার গোলচত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার স্বাধীনতা চত্ত্বরে এসে শেষ হয়।
এ সময় আন্দোলকারীরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, ‘অনেকেই মনে করতে পারেন, আমাদের আন্দোলনে জনবল কমে যাচ্ছে। আজকের মিছিলের উপস্থিতিই তাদের এই মিথ্যা কথার জবাব।’
একই বর্ষের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলনে কতিপয় মহল হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। আমরা তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, হুমকি দিয়ে আমাদের এই আন্দোলন দমানো যাবে না। আমাদের গণতান্ত্রিক দাবি একটাই, কুয়েটের অধ্যাপক ড. শরীফুল আলমকে উপাচার্য পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল চাই। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল চাই।’
চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্দোলনে অচলাবস্থা চলছে। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার সপ্তম দিনের মত শিক্ষার্থীরা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন।
পাশাপাশি চুয়েট শিক্ষক সমিতি রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছে। সোমবার দ্বিতীয় দিনের মত তারা কর্মবিরতি পালন করেন।
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করা হয়।
৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।












