২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১১ কোটি টাকার পপি ক্ষেত উচ্ছেদ

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সীমান্তঘেঁষা জনশূন্য অঞ্চল এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল নিষিদ্ধ পপি চাষ। অবশেষে বড় ধরনের অভিযানে সেই চক্রের ওপর আঘাত হেনেছে যৌথ বাহিনী। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলার গভীর পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৯ একর পপি ক্ষেত ধ্বংস করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টহল দল দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে অন্তত ১২টি পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান শেষে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পপি গাছ উপড়ে ফেলে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে তা পুনরায় ব্যবহার করা না যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধ্বংস করা ক্ষেত থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কেজি আফিম উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। উদ্ধার ও ধ্বংসকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল বিশেষ করে ডিমপাহাড় ও সাঙ্গু নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় গোপনে পপি চাষের বিস্তার ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় এখনও শতাধিক একরের বেশি জমিতে নিষিদ্ধ এই চাষাবাদ চলছে, যার পেছনে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য অঞ্চলে মাদকচক্রের বিস্তার ঠেকাতে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁদের মতে, পাহাড়ে মাদক উৎপাদনের উৎস ধ্বংস করা গেলে চোরাচালানও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা গেলে পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় মাদকচক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ