চট্টগ্রামে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্পদ গোপন, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়।
বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে দুদকের চট্টগ্রাম-১ জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক কমল চক্রবর্তী।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম/প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান (অবসরপ্রাপ্ত) তার সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ১০ কোটি ৭৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন।
অনুসন্ধানে তার নামে মোট প্রায় ২৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকার নিট সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও তিনি ঘোষণা দেন প্রায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সম্পদ। এছাড়া তার বৈধ আয়ের উৎস বিবেচনায় প্রায় ১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের কোনো গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী সায়মা হাসান ওরফে সায়মা বেগমের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করেছে দুদক। এজাহারে বলা হয়, তিনি তার সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন।
অনুসন্ধানে তার নিট সম্পদের পরিমাণ পাওয়া যায় প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যেখানে তিনি ঘোষণা দেন প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। একইসঙ্গে তার আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী মোহাম্মদ কামরুল হাসান তার অবৈধ উপার্জনের অর্থ স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে ব্যবহার করেছেন এবং এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন। এ কারণে স্ত্রীকে সহায়তার অভিযোগে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় এবং স্বামীর বিরুদ্ধে একই সঙ্গে সহায়তার অভিযোগে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।












