২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২১ দিন পর ডিএপি সার কারখানায় উৎপাদন শুরু

গ্যাস ও অ্যামোনিয়া সংকটে টানা ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারার রাংগাদিয়া এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের দুটি প্ল্যান্ট।

শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টা থেকে কারখানাটিতে পুনরায় সার উৎপাদন শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক।

তিনি জানান, গত ২ মে বিকেল থেকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-এ উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু হয়। কয়েকদিন ধরে অ্যামোনিয়া মজুদ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে শনিবার দুপুর থেকে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।

মঈনুল হক বলেন, ‌‘বর্তমানে অ্যামোনিয়ার সংকট কিছুটা কেটেছে। তবে কতদিন উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে কাফকোর উৎপাদন পরিস্থিতির ওপর।’

জানা যায়, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত দুটি বৃহৎ সার কারখানা— চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পেয়ে থাকে ডিএপি-১ ও ডিএপি-২ প্ল্যান্ট। গত ৪ মার্চ সরকারি নির্দেশনায় গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে ডিএপি কারখানাতেও অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে মজুদ থাকা অ্যামোনিয়া দিয়ে প্রায় দেড় মাস উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হলেও গত ১৮ এপ্রিল রাতে সেই মজুদ শেষ হয়ে গেলে ডিএপি কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে সম্প্রতি কাফকোতে উৎপাদন শুরু হওয়ায় আবারও ডিএপি কারখানায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ স্বাভাবিক হয় এবং পুনরায় উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো চালু হয়নি সিইউএফএল সার কারখানা।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে যৌগিক সারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া কারখানাটির দুটি ইউনিটে প্রতিদিন মোট ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ডিএপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

আরও পড়ুন