মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »
কোরবানির ঈদ বা ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরে ফেরা মানুষের যানবাহন সুবিধা দিতে বদ্ধপরিকর রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল। আজ শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম। আসনসহ দুই লাখ টিকেট বিক্রির টার্গেটের পাশাপাশি রয়েছে ২০ ভাগ তথা ৩০ হাজার স্ট্যান্ডিং টিকেট বিক্রির কার্যক্রমও। এ উপলক্ষে স্টেশনে সহজ ডট কমের পক্ষ থেকে মোবাইল অ্যাপস খোলা হয়েছে। এদিকে, সকাল সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম রেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সঙ্গীয় টিম।
৫ দিনব্যাপী অগ্রিম টিকেট বিক্রির কার্যক্রম শেষ হবে আগামী ৫ জুলাই। এবারও ৫০ ভাগ মোবাইলে ৪০% কাউন্টার থেকে অগ্রিম বিক্রি শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বাকি ১০% টিকেট ভিআইপি ও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে। অনলাইনে বিক্যাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্নভাবে ই-টিকেটিংয়ের মাধ্যমে টিকেট ক্রয় করা যাবে।
টিকেট বিক্রির বিষয়ে রেলের পূর্বাঞ্চলীয় চীফ কর্মাশিয়াল ম্যানেজার বলেন, অগ্রিম টিকেট বিক্রির ১ম ও ২য় দিন একটু কমযাত্রী থাকে কিন্তু শেষের তিন দিন টিকেটের কাটতি থাকে। ওভারঅল যাত্রার আগের দিন পর্যন্ত এ দুদিনের টিকেটও বিক্রি হয়ে যাবে। এছাড়া যাত্রীদের চাপের মুখে স্ট্যান্ডিং টিকেটও বিক্রি করতে হয়। কিন্তু অগ্রিম টিকিট ফেরত বা পরিবর্তন করবে না কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ঈদ উপলক্ষে ৫টি জংশন স্টেশন থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। তবে স্টেশন থেকে ৫ দিনব্যাপী অগ্রিম টিকেট বিক্রির এ কার্যক্রমে এক যাত্রী ৪টির বেশি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন না। এমনকি এনআইডি দিয়ে পৃথকভাবেও একজনে ৪টি টিকেট ক্রয় করতে পারবে না। এক্ষেত্রে স্টেশন ম্যানেজারকে আবেদনের মাধ্যমে অতিরিক্ত টিকিট ক্রয়ের সুবিধা নিতে পারবে যাত্রীরা।
চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, মহিলাদের জন্য ১নং কাউন্টার আর পুরুষদের জন্য বাকী কাউন্টারগুলো থেকে অগ্রীম টিকেট বিক্রি কার্যক্রম চলেছে। সকাল সাড়ে ১০টা না বাজতেই কাউন্টারে টিকিট কেনার যাত্রী তেমন খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেশকিছু নিউজ চ্যানেলের সংবাদকর্মী ভাল ফুটেজের আশায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্টেশন কম্পাউন্ডে ঘোরাঘুরি করেছে। তবে যাত্রীদেরও কোন অভিযোগ ছিল না শুক্রবার। এদিকে, ঢাকা স্টেশনে টিকেট কিনতে আশা যাত্রীদের চাপে হিশশিম খেয়েছে কর্তৃপক্ষ। দুপুর ১২টায়ও যাত্রীরা টিকিটের আশায় কাউন্টারে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, শেষের দিনগুলোতে প্রতিবারের মতোই কালোবাজারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট প্রতি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ভোগান্তি ও অর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করবে যাত্রীদের। রেলের উভয় জোনে মোট ৩৯টি আন্তঃনগর, ২টি চট্টলা এক্সপ্রেস ছাড়াও ৪৪টি মেইল ট্রেন চালু থাকবে যাত্রী পরিবহনে। তবে মেইল ট্রেনের জন্য কোন অগ্রিম টিকেট বিক্রি হবে না।
এদিকে, ৩৯ টি আন্তঃনগর ও চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে এবার প্রায় ৩০ হাজার স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির কর্মসূচী ঈদ যাত্রায় আরামদায়ক ভ্রমনের পরিবর্তে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে উঠবে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ স্টেশনের কাউন্টার সূত্র জানিয়েছে, যাত্রীদের চাপের মুখে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে, এবার রেল কর্তৃপক্ষেরও ইঞ্জিন ও কোচ সঙ্কটের কোন কারণ নেই। এছাড়া ঈদের আগের দিন চট্টগ্রাম-চাঁদপুর, চট্টগ্রাম-কুমিল্লা, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ, ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ কিশোরগঞ্জের মধ্যে ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালু থাকবে। এসব স্পেশাল ট্রেনে রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।
পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার তরফ থেকে জানা গেছে, যাত্রী সেবার মান ঠিক রেখেই ট্রেন পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টিকেট বিক্রি হবে। এছাড়া, স্পেশাল ট্রেনের মাধ্যমে ঈদযাত্রা ঠিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত আছে। চোরাকারবারি ঠেকাতে বিশেষ টিম কাজ করছে জিআরপি’র নেতৃত্বে।
চট্টগ্রাম স্টেশন কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট ছাড়াও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন ও জয়দেবপুর স্টেশন থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম চলবে। এছাড়াও ট্রেন ছাড়ার একঘন্টা আগ থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে প্রতিদিনের নির্ধারিত টিকিট বিক্রি ও অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলাকালীন সময়ে বিক্রি করা হবে। অগ্রিম টিকিট বিক্রির জন্য এ ৫টি স্টেশনে সুশৃঙ্খলভাবে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহের জন্য কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে, মিটারগেজ লাইনে চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, চাঁদপুর, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় ৪৪টি এক্সপ্রেস, মেইল, লোকাল ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকবে।












