২০ মার্চ ২০২৬

৫৫ বছরে পদার্পণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাধারা প্রতিবেদন  »

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পাহাড় আর সবুজের মাঝে অপরূপ ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। দেশের সর্ববৃহৎ ২১’শ একরের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর। সাফল্য, গৌরব ও নানা ঐতিহ্যের সাক্ষী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ।

এ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকালে ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কেক কাটা ও উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। এছাড়া বিকেলে শহরের চারুকলা ইনিস্টিউটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করবে চবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। স্বল্পপরিসরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এতে থাকবে বেলুন ওড়ানো, কেক কাটা ও আলোচনা সভা।

চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে সবুজ, শ্যামল পাহাড়ের কোল ঘেঁষে চারটি বিভাগ, ২০৪ জন শিক্ষার্থী ও সাত শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ৯টি অনুষদে ৪৮টি বিভাগ, ৬টি ইনস্টিটিউট ও প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে আছেন ৯২০ জন শিক্ষক।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য আছে ১৩টি আবাসিক হল ও একটি ছাত্রাবাস। রয়েছে ৪ লক্ষাধিক বইয়ের বিশাল সংগ্রহশালা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। যেখানে আছে দেশ-বিদেশের দুষ্প্রাপ্য ও দুর্লভ অনেক বই, সাময়িকী, পত্র-পত্রিকা, জার্নাল ও পান্ডুলিপি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে তিনটি ভিন্নধর্মী নিজস্ব জাদুঘর— যাতে দেখা মেলে দুর্লভ অনেক সংগ্রহের।

১৯৮০ সালে চালু হওয়া শাটল ট্রেন চবি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান বাহন। ফলে পৃথিবীর একমাত্র শাটলের ক্যাম্পাসও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশের অন্যতম এ বিদ্যাপীঠ অনেক গুণীজনের জন্ম দিয়েছে। সংস্পর্শ পেয়েছে বরেণ্য মনীষার। উপমহাদেশের খ্যাতিমান ভৌত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলাম, নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন, অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক আবুল ফজল, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সৈয়দ আলী আহসান, মুর্তজা বশীর, ঢালী আল মামুন, সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নানসহ বহু কীর্তিমান মনীষী জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, চাঁদপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১১জন সচিব ও ৩০ জন অতিরিক্ত সচিব পদসহ বিভিন ক্ষেত্রে চবি শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করেছেন।

দেশের ক্রান্তিকালেও এ বিশ্ববিদ্যালয় রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছিলো এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। মহান মুক্তিযুদ্ধে চবির ১৫ জন শহীদ হন।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিন আখতার বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমরা অনেক স্বপ্ন বুনে রেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আমাদের অনেক আশা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যাওয়ার জন্য গবেষণা কাজ বৃদ্ধি করতে হবে। আর সে লক্ষ্যে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে চাই। যেন আমরা বলতে পারি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সবার কল্যাণে এগিয়ে যাচ্ছে।’

বাংলাধারা/এফএস/ওএস/এআর

আরও পড়ুন