২৫ মার্চ ২০২৬

৯৯৯—এ কল দিয়ে রক্ষা পেল পরিবার

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

জাতীয় নিরাপত্তা সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দ্বারা হত্যার চেষ্টা থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছে কক্সবাজারের রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির চেইন্দার এক নিরহ পরিবার। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে দুর্বৃত্তরা এ হামলার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগে অসহায় পরিবারটির জমির সীমানা প্রাচীর (ঘেরাবেড়া) ও খেত-খামার নষ্ট করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছে।

শনিবার (২৬ মার্চ) দুপুরের দিকে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির চেইন্দার কাইম্যারঘোনা এলাকায় ঘটা এ ঘটনায় ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় রামু থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলো— ওই এলাকার মোকতার আহমেদের ছেলে একাধিক মামলার আসামি জাবেদ ইকবাল (৪৩) ও আবছার কামালসহ (৩৮) অজ্ঞাত নামা আরো বেশ কয়েকজন।

চেইন্দার কাইম্যারঘোনার সুলতান আহমদের ছেলে মো. ফারুক অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, একই এলাকার মোক্তার আহমদের ছেলে আবছার ও জাবেদ ইকবালসহ ৫-৬ জনের একটি অস্ত্রধারী চক্র এলাকায় নানা ভাবে চাঁদাবাজি করে আসছে। বাড়িতে পুরুষ না থাকার সুযোগে এসব অস্ত্রধারীরা সড়কের পাশে তাদের ভিটার ভেতরের একটি জমি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। বাড়িতে এসে বিষয়টি জানার পর তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে দুই লাখ টাকা দাবি করে। তা দিতে না পারলে ভিটার জমিটি দখলে নিবে বলে হুমকি দেয়। দীর্ঘ দিন পূর্বের এ ঘটনার পর ২৬ মার্চ আবার হঠাৎ করে এসে চাঁদার টাকাটা দাবী করে। দিতে অস্বীকার করায় আবছার ধারালো দা নিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে সশস্ত্র চক্রকে নিয়ে ভিটায় অনধিকার প্রবেশ করে। তখন প্রকাশ্যে গালমন্দ করে টিনের ঘেরাবেড়া ভাংচুর ও খেত-খামার উপড়ে ফেলে তারা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসময় বাড়িতে থাকা তার (ফারুকের) ছোট ভাই ইসমাইলকে উদ্দেশ্য করে আবছার কামালের হুমকি ছিলো এরকম- ঐ ইসমাইল্লা তোঁয়ারা ঘরর বাহির অইলে হল্লা ছিরি পেলাইয়ুম (গলা কেটে ফেলবো)।

তার (আবছারের) চক্রদের উদ্দেশ্যে বলে, এই মামুইন্না (মামুন) বিয়াগ্গুন (সকলে) গুলি লই আঁয়- ইতারারে (এদের) এহঁন গুলি গরি মারি ফেলাইয়ুম।

এরপর, সবাই এলে সশস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা চালায় আবছার ও জাবেদরা।

ফারুক আরো দাবি করেন, দুর্বৃত্তরা যখন বাড়িতে ঢুকতে চেষ্টা চালায় তখন বাবা-মা,ভাই-বোন খুন হবার ভয়ে আতংকিত হন। কৌশলে জাতীয় নিরাপত্তা সেবা ৯৯৯-তে কল দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করি। পরে রামু থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এটা কেমন করে যেন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছার আগেই দুর্বৃত্তরা ব্যাপকভাবে ভাংচুর চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সটকে পড়ে। দুর্বৃত্তদের সকল অপতৎপরতা সিসিটিভি ক্যামরায় ধারণ করা আছে।

এ ব্যাপারে রামু থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনার তদন্তের জন্য উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম আযাদকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

জাতীয় নিরাপত্তা নম্বরের কল পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) এজাহার মিয়া বলেন, অভিযোগ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তবে, পৌঁছানোর পূর্বে দূর্বৃত্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগিদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আবদুস সামাদ আযাদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুঠোফোনে অভিযুক্ত জাবেদ ইকবাল বলেন, আমরা চাঁদাবাজ নয়- আমাদের জায়গায় এক আত্মীয় ঘর করতে গেলে ফারুকরা বাঁধা দেয়। তা রোধ করতেই আমরা সেখানে গিয়েছি।

আরও পড়ুন