১৪ জুন ২০২৪

মিরসরাইয়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরে হামলা, আহত ৫

আহত

মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ইছাখালী ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে হামলায় পাঁচ যুবক আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইছাখালী ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু ইকোনোমিক জোন সংলগ্ন বাংলাবাজার কইচ্ছপ্যা মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন হামলার শিকার সাইফুল ইসলাম রাসেল (৩৫)। তিনি মিরসরাই পৌরসভার বাসিন্দা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুণ বলেন, ‘হামলার ঘটনা শুনেছি। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। আমি নির্বাচনী কাজে (উপজেলা নির্বাচন) জোরারগঞ্জের বাইরে থাকায় বিস্তারিত জানিনা। খোঁজ খবর নিবো। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সাইফুল ইসলাম রাসেলের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে ব্যবসায়িক কাজে মিরসরাই পৌরসভা থেকে মোটর সাইকেলযোগে মিরসরাই ইকোনোমিক জোনে যাওয়ার পথে কইচ্ছপ্যা মোড় এলাকায় ইছাখালী ইউনিয়নের চরশরৎ এলাকার বাসিন্দা মো. আমান (২১) অন্যমনস্ক হয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। একারণে তার গায়ের সাথে সামান্য ধাক্কা লাগে। এরপর রাসেল তাকে মনযোগী হয়ে রাস্তা পার হওয়ার অনুরোধ করলে সে দুর্ব্যবহার করে মারতে উদ্যত হয়। এসময় তাকে ভাষা সংযত করে কথা বলতে বললে তার সাথে থাকা মো. ইমন (২২), মো. আলাউদ্দিন (২৫), সুফল দাশ (২৪) ১৫/২০ জনের একটি দল মোটর সাইকেল থেকে নামিয়ে রাসেলকে পিটানো শুরু করে।

এসময় কিছু বুঝে উঠার আগেই রাসেলকে টেনেহিঁচড়ে একপাশে নির্জন এলাকায় নিয়ে উপর্যুপুরি হামলা চালাতে থাকে। এসময় তার পকেটে থাকা নগদ ২২ হাজার টাকা এবং ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। সেখান থেকে ছুটে গিয়ে স্থানীয় একজনের মোবাইল থেকে ফোন করলে তার চাচাত- জেঠাতো ভাইরা তাকে বাঁচাতে ছুটে যায়।

এসময় হামলাকারীরা সাইফুলের চাচাত ভাই আরিফুর রহমান টিপু, জাহেদুল নবী, জেঠাত ভাই মো জুয়েল, ছোট ভাই আইনুল ইসলামকে কিরিচ, হকিস্টিক, লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ও কুপিয়ে জখম করে। এতে কয়েকজনের মাথা ফেটে যায়। গুরুতর আহত হয় আরিফুর রহমান টিপু। এসময় তারা সাইফুলের মোটর সাইকেল ভাংচুর করে তার ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খন্দকার নোমান শায়েরী জানান, মারামারির ঘটনায় গতকাল রাতে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে তাদের মধ্যে গুরুতর আহত আরিফুর রহমান টিপুর মাথায় গুরুতর জখম হয়। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়েিেছ।

জোরারগঞ্জ থানার এস আই হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হামলার ঘটনা সত্য। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখছি। আজকে (বৃহস্পতিবার) গিয়ে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করেছি। আগামীকাল আবারো তদন্তে যাবো। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন