১০ মার্চ ২০২৬

আনোয়ারায় তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্যের লাশ উদ্ধার: “পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা”

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি ভবন থেকে পড়ে তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্য মহিম নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাশেম কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক মো. মহিম (২৫) কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার মো. আবুল কামালের পুত্র। সে দীর্ঘদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন শোলকাটা গ্রাম এলাকায় বসবাস করে আসছিল।

জানা যায়, নিহত মো. মহিম স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘সম্রাট গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। আনোয়ারা থানায় দাগী সন্ত্রাসী হিসেবে তার ছবি ও নাম টাঙানো আছে। এর আগে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত ভোরে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় মহিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জাহির তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার মৃত্যুতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে তার স্বজনরা। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয় নিহতের সঙ্গী ও স্বজনেরা। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দরজায় ঘুষি দিয়ে আঘাত করে ভেঙে ফেলে এবং হাসপাতালের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে তার বাড়ির দূরত্ব আধা কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলে রাত দশটায়ও ঘরে ছিল। রাত দেড়টার দিকে একজন লোক তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে খবর পাই যে আমার ছেলে ভবন থেকে মাটিতে পড়ে মারা গেছে। আমার বিশ্বাস, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

ভবন মালিক আবুল হাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি শহরে থাকি। ঘটনাস্থলে গেলে প্রকৃত ঘটনা বলতে পারব।”

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “সকালে পুলিশ নিহত মহিমকে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর শুনে তার সঙ্গী ও স্বজনেরা হাসপাতালে জড়ো হতে থাকেন। পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এক যুবক জরুরি বিভাগের দরজা-গ্লাস ভাঙচুর করে।”

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা নিহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, ওই ভবনে চুরি করতে গিয়ে মাটিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় চারটি মামলা রয়েছে। তার মৃত্যুতে হাসপাতালে উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ