১৭ মার্চ ২০২৬

চেয়ারম্যানে হয়রানিতে অতিষ্ঠ; প্রতিবাদে মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»

অত্যাচার ও হয়রানির অভিযোগ এনে কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে ব্যবসায়ীরা। শনিবার (২ এপ্রিল) রাতভর বিক্ষোভের পর রোববার (৩ এপ্রিল) সকাল ৬ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করে ব্যবসায়ী সমিতি। এরই অংশ হিসেবে রোববার (৩ এপ্রিল) ভোর ৬ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত অর্ধদিবস ধর্মঘট পালন করেছে ব্যবসায়ীরা।পাশাপাশি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যহত রেখেছে মরিচ্যা বাজারের ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ইমরুল কায়েস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার পক্ষে ভোট না করা ও নৌকার পক্ষে ভোট করা ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। এতে নিরুপায় ও অতিষ্ঠ হয়ে বিক্ষোভ এবং দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করেছে তারা।

মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি একই ইউপির মেম্বার মনজুর আলম বলেন, গত ১১ নভেম্বর চেয়ারম্যান হওয়ার পরই হলদিয়াপালংয়ের মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ীরা শান্তিতে নেই৷ নির্বাচনে অন্য প্রার্থীদের পক্ষে যারা কাজ করেছে তাদের দোকান লুটপাট, উচ্ছেদ এবং ভাঙচুর চালিয়ে আসছেন৷

শনিবার (২ এপ্রিল) মরিচ্যা বাজারে বেশকয়েকটি দোকানে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়৷ এসময় ব্যবসায়ীরা একপর্যায়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিছিল করে এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করে৷ এসময় শত শত ব্যবসায়ী ও তার রোষানলে পড়া সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন এবং চেয়ারম্যানের নামে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। পরে মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমবায় সমিতির সর্বসম্মতি ক্রমে মরিচ্যা বাজারের দোকানপাট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীবকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে৷ অফিসিয়ালি ভাবে আজ অভিযোগ দেওয়া হবে৷

মরিচ্যা বাজারের ব্যবসায়ী জসিম আহমেদ বলেন, ইমরুল চেয়ারম্যান হওয়ার পরই প্রথমে আমার দোকান উচ্ছেদ করে। কারণ আমি হলদিয়াপালং’য়ের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলমের জন্য ভোট করেছিলাম। ইমরুল চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে মরিচ্যা ব্যবসায়ীদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তিনি একটি ট্রেড লাইসেন্সের জন্য ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার নজিরও সৃষ্টি করেছেন।এটার সুষ্ট ভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি আবেদন করছি৷

তবে, অভিযোগ বিষয়ে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, সরকারি শেড ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতানো একটি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় বিএনপির দায়িত্বশীলরা মিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, শনিবার রাত থেকে অনেকেই মরিচ্যা বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে বিক্ষোভের বিষয়টি অবগত করেছেন। তবে কেউ এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এরপরও পবিত্র রমজান মাসের বিষয়টি মাথায় রেখে আমি বাজারের নেতৃবৃন্দকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুন