২৩ মার্চ ২০২৬

বান্ধবীর ‘আত্মহনন’র বিচার পাইয়ে দিতে থানা ভবনে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা!

কক্সবাজার প্রতিনিধি»

কক্সবাজার সদর থানা ভবনের চারতলার সানশেইডে উঠে লাফিয়ে কিশোরের আত্মহত্যার চেষ্টার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক নারী বন্ধু তার পিতার কারণে আত্মহত্যার বিচার পেতে নানা ভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে পুলিশের সুদৃষ্টি পেতে এমন অদ্ভুত কান্ডটি ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস। ভবনের বর্ধিতাংশ নির্মাণ কাজের জন্য তৈরী করা অস্থায়ী সিঁড়ি বেয়েই কিশোরটি চারতলার সানশেইডে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। সানশেইডে উঠে ধারালো কাটার দিয়ে নিজের হাতের রগ কাটে সে। এতে অনেক রক্তক্ষরণ হয় তার।

নানাভাবে বুঝিয়ে তাকে সানশেইড থেকে নামানোর পর দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দিয়ে রাতে স্বাভাবিক হলে কিশোরটি সাথে কথা হয় উল্লেখ করে ওসি গীয়াস বলেন, স্বাভাভিক জ্ঞান আসার পর কিশোরটি আমাকে (ওসিকে) খুঁজে। এসময় বাবা-মা, স্বজনরা তার সাথে কথা বলতে চাইলে সবাইকে এড়িয়ে যায়। আমি গেলে, সানশেইডে উঠার আগে তার লেখা একটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) আমার হাতে দেয়। ওই সুইসাইড নোটে পুলিশকে তার বান্ধবী সুবহা নামে এক কিশোরী আত্মহত্যার বিচার পাইয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়।

চিরকুটে সুবহাকে প্রেমিকা দাবি করে কিশোর ওসাইমিম লিখেন, ২০২০ সালে সুবহার সাথে পরিচয় তার। গত রমজানে সুবহার বাবা সুবহাকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। এঘটনায় তার বাবা মায়ের সংসার ভেঙে যায়। এক পর্যায়ে বাবার যৌন নির্যাতনের চেষ্টা এবং পারিবারিক কলহে সুবহা আত্মহত্যা করেছে।

সুবহার বাড়ি নারায়নগঞ্জের হাজিগঞ্জে উল্লেখ করে ওসাইমিম লিখেন, যাদের কারণে সুবহা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে সে অনেকের কাছেই গিয়েছেন। কিন্তু কেউই তাকে সহযোগিতা করেনি। সুবহাকে বিচার পাইয়ে দিতে না পারায় সেও পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছেন বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করে সে। কথিত সুবহা নামের ওই কিশোরীর মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আনার জন্য থানা ভবনকে সুইসাইডের জন্য বেছে নেন বলে দাবী করেন এ কিশোর।

এদিকে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করা কথিত সুবহার মৃত্যুর ঘটনাটি বেশ ভয়াবহ। যদি সেটি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে ওই ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সবরকমের সহযোগিতার আশ্বাস তাকে (ওসাইমিমকে) দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওসি গীয়াস।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে সবার অগোচরে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভবনের সানশেইডে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন দশম শ্রেণির ছাত্র ওসাইমিম। রাউন্ড ডিউটি শেষে ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস এ দৃশ্য দেখে কিশোরটির সাথে মাইকে কথা বলেন। তার সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে নানা কথা বলতে বলতে ওসিও উপরে উঠে কিশোরকে বুঝিয়ে করে নিচে নামাতে সক্ষম হন। তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগেই ওসাইমিম ধারালো ব্লেড দিয়ে নিজের হাত কাটে।

ওসাইমিম উখিয়ার পালংখালীর শাহজাহানের ছেলে এবং কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির ১০ম শ্রেণির ছাত্র। তারা বর্তমানে শহরের পাহাড়তলী কচ্ছপিয়া পুকুর এলাকায় বাস করেন।

ওসাইমিমের মা এবং বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ ঘটনায় এর আগেও ব্লেড দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল সে। তার মায়ের ধারণা, এসএসসি পরীক্ষা সামনে চলে আসায় মোবাইল ব্যবহার কমানোর জন্য তাকে শাসানো হওয়ায় হয়তো আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, কথা বলে বুঝেছি ছেলেটি খুবই মেধাবি ও পরিচ্ছন্ন বিবেচনার। অতি আবেগে না দেখা এক কিশোরীর জন্য পাগলামী করে বসেছে। এটি বয়সের দোষ। কিছুদিন কাউন্সিলিং করে সবাই বন্ধুর মতো আচরণ করলে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে মনে করেন ওসি।

আরও পড়ুন