বান্দরবান প্রতিনিধি »
বান্দরবানের আলীকদমে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যায়ে চলছে রাস্তার কাজ। রাস্তায় ময়লাযুক্ত ও বৃষ্টিতেও চলছে সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ। এছাড়া এ কাজে নিম্ন মানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে ঠিকাদার আবু বক্করের বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসী অভিযোগ, প্রচণ্ড বৃষ্টির পানিতে ও কাদামাটিতেই চলছে সড়কের কার্পেটিং কাজ। এতে ওই সড়কের কাজের মান নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
এদিকে প্রচণ্ড বৃষ্টির পানিতে ও কাদাঁমাটিতে ঠিকাদার আবু বক্করের নিয়োজিত শ্রমিকরা সড়কের কার্পেটিং করেছেন এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল সমালোচনা ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন স্থানীয়রা।
আলীকদম এলজিইডি তথ্যমতে, আলীকদম উপজেলার ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় ৫ প্যাকেজে সড়ক উন্ননের নামে কার্পেটিং কাজটি দেওয়া হলেও মূল কার্পেটিং কাজটি করছেন ঠিকাদার আবু বক্কর।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়াইহ্লা কারবারি পাড়ায় নির্মাধীন সড়কে মাটিযুক্ত ও অপরিষ্কার, গাছের পাতা, ডাল রাস্তায় পড়ে আছে তার উপর রাস্তায় কার্পেটিংয়ের কাজ করছেন ঠিকাদারের শ্রমিকরা। সে কাজে নিম্মমানের বিটুমিন, ময়লাযুক্ত বুজুরি ও অপরিষ্কার পাথরের সংমিশ্রণে রাস্তার কার্পেটিং কাজ করছেন ঠিকাদার। পাশে উপজেলা এলজিইডির অফিস সহায়ক দাঁড়িয়ে থাকলেও তাতেও কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার আবু বক্কর যেসব কাজ করেছেন সবই নিম্নমানের ও সব রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে। তবুও বার বার তাকে অদৃশ্য কারণে কাজ দিচ্ছেন এলজিইডির কর্তৃপক্ষ। কাজের মান ও স্থায়িত্ব কতটুকু তা সময় বলে দেবে। সরকারের টেকসই উন্নয়ন— এমন ঠিকাদারের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই টাকা দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার।

স্থানীয় বাসিন্দা উচাইমং মার্মা ও মচিং মার্মা জানান, রাস্তা কার্পেটিং করার আগে বিটুমিন ব্যবহারের কথা থাকলেও তা ব্যবহার করছেন নামে মাত্র। বৃষ্টির পানি ও কাদাঁমাটি পানির উপর দিয়ে কার্পেটিং করছিল ঠিকাদারের লোকজন। আবার বৃষ্টিতে কাজ না করতে নিষেধ করলে ঠিকাদার আমাদের হুমকি দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আবু বক্কর বলেন, সকালে বৃষ্টি না থাকায় কার্পেটিং কাজ চলছিল। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কার্পেটিংয়ের মালামাল নষ্ট হয়ে যাবে তাই শ্রমিকরা রাস্তায় ব্যবহার করেছেন।
আলিকদম উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ বলেছেন, বৃষ্টিতে যতটুকু কার্পেটিং করেছে ঠিকাদার সেটি পরিদর্শনে গিয়ে সবটুকু তুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ রাখার জন্য প্রতি বছর এলজিইডি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চিঠি দিলেও এখনও পর্যন্ত কোন চিঠি পাননি। তবে সড়কের কাজ শতভাগ মান সম্মত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












