সিলেট : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সকালের ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।
বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজার এলাকার কুতুবপুর নামক স্থানে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সৌরভ (২৭), সুনামগঞ্জের আলীনগরের শিশু মিয়ার ছেলে হারিছ মিয়া (৫৫), নেত্রকোনার বারহাট্টা এলাকার মৃত ইসলাম উদ্দিনের ছেলে আওলাদ হোসেন (৪০), সুনামগঞ্জের দিরাই ভাটিপাড়ার সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. সৈয়ব আলী (২৭), একই এলাকার বাদশা মিয়া (২৫), দিরাই মধুপুর গ্রামের সুনাই মিয়ার ছেলে সাধু মিয়া (৪০), দিরাই ভাটিপাড়ার মৃত সজিব আলীর ছেলে রশিদ মিয়া (৫০), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাবনগাওয়ের মৃত ওয়াহাব আলীর ছেলে শাহীন মিয়া (৪০), একই উপজেলার মুরাদপুরের হারুন মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (২৬), সুনামগঞ্জ দিরাই ভাটিপাড়ার মফিজ মিয়ার ছেলে সায়েদ নুর (৬০), শান্তিগঞ্জ তলের বনত গ্রামের মৃত আমান উল্লাহ তালুকদারের ছেলে আওলাদ হোসেন তালুকদার (৫০), সুনামগঞ্জের দিরাই পাতাইয়া কাইম গ্রামের জসিম মিয়ার ছেলে একলিম মিয়া (৫০), একই উপজেলার গছিয়া গ্রামের বারিক উল্লাহর ছেলে সিজিল মিয়া (৫৫) ও সিলেট নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামবাগিচার আব্দুর রহিমের স্ত্রী আমিনা বেগম (৪৩)। নিহতরা সবাই নির্মাণশ্রমিক বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই ১১ জন মারা যান। আর হাসপাতালে আনার পর আরও তিনজন মারা যান বলে জানিয়েছেন ওসমানী হাসপাতালের ফাঁড়ির ইনচার্জ জুয়েল আহমদ।
দুর্ঘটনার পর নাজিরবাজারের দুদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পিকআপে (সিলেট-ন ১১-১৬৪৭) করে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ৩০-৩৫ জনের মতো নির্মাণ শ্রমিক সকালে কাজের উদ্দেশ্য একটি পিকআপে করে সিলেটের পার্শ্ববর্তী উপজেলা ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে যাচ্ছিলেন। পিকআপটি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নজিরবাজার এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ এবং সিলেট ও ওসমানীনগর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হতাহতদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলেই ছুটে যাই এবং ১১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করি। আমরা আসার আগে স্থানীয়রা কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’












