বাংলাধারা প্রতিবেদন »
নগরীর জিইসি মোড় থেকে নাকে স্প্রে করে অপহরণের একদিন পর গতকাল অপহৃত কলেজ ছাত্র জিয়াউল হক নয়নকে (২৩) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনির এল ব্লকের সমাজ কল্যাণ সমিতির ১৪৭ নং বাসা থেকে উদ্ধার করেছে খুলশী থানা পুলিশ। নয়ন বাঁশখালীর খানখানাবাদের সামছুল আলমের নতুন বাড়ির মৃত সামছুল আলমের ছেলে। তিনি পরিবারের সাথে খুলশী এলাকার ভূঁইয়া গলির প্যারিটি হোমের ২০নং ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। এ ঘটনায় জড়িত দুই অপহরণকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতদের একজন বাঁশখালীর নাপোরা ফেরদৌস চেয়ারম্যান বাড়ির একরামুল কাদেরের ছেলে মো. আবিদ ওয়াসিফ প্রকাশ এ্যানি(২২)। অপরজন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানা এলাকার আমানতপুরের হাজী মাওলানা বাড়ির মৃত আজিজুল হকের ছেলে মো. নুর হোসেন প্রকাশ নুরু(২৩)। তারা উভয়ে আকবরশাহ এলাকার ভাড়া বাসায় থাকেন। উদ্ধার হওয়ার পর ভুক্তভোগী নয়ন খুলশী থানায় এজাহার দায়ের করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা পৌণে ৭টার দিকে জিইসি মোড়ের ইফকো কমপ্লেক্সের সামনে এক বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন কলেজছাত্র নয়ন। এসময় ৩জন লোক তার সামনে এসে দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে একজন নয়নের নাকে একটি স্প্রে করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর যখন জ্ঞান ফিরে তখন নিজেকে একটি বদ্ধ ঘরে দেখতে পান। পরে ৭-৮ জনের একদল অপহরণকারী নয়নের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না হলে নয়নকে মারধর করে। নিরুপায় হয়ে নয়ন তার বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করলে আলাউদ্দিন, অনন্ত, শাহাবুদ্দিন ও আজিজ ৪ বন্ধু মিলে অপহরণকারীদের বিকাশ (০১৭৭২-৪৯২৯৫৭) নম্বরে ২৫ হাজার টাকা দেন। এছাড়াও নয়নের বিকাশ নম্বরে তার বড় ভাইয়ের পাঠানো ১৫ হাজার টাকাও তারা নিয়ে নেয়।
এবিষয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী বাংলাধারাকে জানান, নয়নকে অপহরণের খবর পাওয়ার পর পুলিশের তিনটি টিম তাকে উদ্ধারের জন্য তৎপরতা শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনির এল ব্লকের সমাজ কল্যাণ সমিতির ১৪৭ নং বাসা থেকে গতকাল সকাল ১১ টায় নয়নকে উদ্ধার করে এবং দুই অপহরণকারীকে আটক করা হয়। এরপর বিকাল ৩টার দিকে পুলিশ নয়নকে নিয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলে গেলে অপহরণচক্রের অপর সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এর আগে অপহরণকারীরা বিকাশ নম্বরে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে যায়।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম












