সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের জন্য সহজ, সাশ্রয়ী ও দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী স্বাস্থ্য সেবা’ নামে মাল্টি-স্পেশালাইজড টেলিমেডিসিন অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এশিয়ান হেলথ কেয়ার গ্রুপ। উদ্যোগটির অগ্রগতি ও সম্ভাবনা নিয়ে ২৩ নভেম্বর (রবিবার) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আবুধাবিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. সালাউদ্দীন আলী।
বৈঠকে ড. সালাউদ্দীন আলী জানান, অ্যাপটি এশিয়ান হেলথ কেয়ার গ্রুপের সিস্টার কনসার্ন হিসেবে পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে ইউএইসহ বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরা বাংলাভাষী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে ২৪ ঘণ্টা অনলাইন চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারবেন। দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট, সময় বেছে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সেবা গ্রহণ এবং সাশ্রয়ী খরচ অ্যাপটির মূল বৈশিষ্ট্য। পাশাপাশি দেশভেদে প্রতিটি জায়গায় একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে প্রবাসীরা নিকটস্থ সেন্টার থেকেই প্রাথমিক সেবা পেতে পারেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রায় ১৪ লাখ কর্মী শুধু ইউএই–তেই কাজ করেন। তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং প্রবাসে তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।” তিনি আরও জানান, ডরমিটরিতে বসবাসরত শ্রমিকরা আবেদন করলে বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন সেবা পাবেন। শ্রমিকদের আবাসিক হলরুমে বড় স্ক্রিন বা টিভি মনিটরের মাধ্যমে একাধিক কর্মী একসঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।
এশিয়ান হেলথ কেয়ার গ্রুপ জানায়, ভবিষ্যতে এমন একটি বাজার নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অ্যাপটি ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দুবাইয়ে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান, দূতাবাস কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন রানু, সাংবাদিক শিবলী আল সাদিক ও মোদাচ্ছের শাহ, ব্যবসায়ী নেতা মুজিবুর রহমান মনুজ, আব্দুর রহিম মানিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়েছেন প্রবীণ চিকিৎসক ডা. মেজবাহ, ডা. খান, ডা. রিপা তারা ফেরদৌস, ডা. সুস্মিতা, ডা. সামিয়া ও ডা. আফসানা শামীম মৌলি।
সরকারের সহযোগিতা কামনা করে ড. সালাউদ্দীন আলী বলেন, “ইউএইর বৃহৎ বাংলাদেশি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসে থাকা দক্ষ চিকিৎসকদের কর্মপরিধি বাড়াতে অ্যাপটির ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে দূতাবাসের সহায়তা প্রয়োজন।”













