১৫ জানুয়ারি ২০২৬

সার্চলাইটে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ২৪-এর অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান সার্চলাইট-এ প্রচারিত এক প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ প্রকাশ পায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৫৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে প্রথম দিকের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

সার্চলাইট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই অনিয়মের সঙ্গে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। তিনি নিজেও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে পিএসসিতে চাকরি নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি পিএসসির চাকরি হারান এবং কারাবন্দি হন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

অনুসন্ধানে আবেদ আলীর সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত একাধিক প্রার্থীর সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। নথিপত্র ও ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) পদে পিএসসির সরাসরি নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ অন্তত চারজন প্রার্থীর সঙ্গে আবেদ আলীর আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

এই চার কর্মকর্তা হলেন, শেরপুর জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সানোয়ার হোসাইন, হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম এবং মেহেরপুর জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, “আমি কোনো আর্থিক লেনদেন বা চেকের সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।”

অন্যদিকে সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। সানোয়ার হোসাইনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং হাবিবুর রহমানের মোবাইল নম্বর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. হাফিজুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, “আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এ বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে আসে, তাহলে প্রধান প্রকৌশলীর পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নয়, বিসিএস ক্যাডারসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের নিয়োগেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশের সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ