২১ জানুয়ারি ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী ভাইয়ের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে আপন ছোট ভাইয়েরা

লক্ষ্মীপুরে প্রকাশ্যে জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাইদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গংগাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাগানে থাকা বিভিন্ন গাছ কেটে বসতঘর তৈরির চেষ্টা করে অভিযুক্তরা।

ভুক্তভোগী বেল্লাল হোসেন সপরিবারে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে থাকায় তার স্বজনরা জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গংগাপুর গ্রামের ফজলুর করিমের ছেলে বেল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে খরিদ সূত্রে মালিক হয়ে জমিটি ভোগদখল করছেন। পূর্বে কখনো এই জমি নিয়ে কোনো বিরোধ হয়নি। বর্তমানে বেল্লাল হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে জমি দখলের চেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা। অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার ফজলুর করিমের ছেলে হেলাল হোসেন ও কামাল হোসেন। সম্পর্কে তারা একে অপরের ভাই।

বেল্লাল হোসেনের স্বজন ও রায়পুর পৌরসভার বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, “সপরিবারে সৌদি আরবে থাকার সুযোগে হেলাল ও কামাল দলবদ্ধ হয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করে। তারা বাগানের গাছ কেটে টিন দিয়ে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিক গিয়ে কাজটি বন্ধ করে দেয়।”

তিনি আরও জানান, পুলিশের নিষেধের পরেও অভিযুক্তরা জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বাগানের পার্শ্ববর্তী জায়গায় টিন দিয়ে বেড়া তৈরি করছে। বর্তমানে বাড়িতে বেল্লালের পরিবারের কেউ না থাকায় যেকোনো সময় তারা ঘর নির্মাণের বাকি কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

সৌদি আরব থেকে মুঠোফোনে বেল্লাল হোসেন বলেন, “আমি সপরিবারে ওমরাহ পালন করতে মক্কায় এসেছি। এই সুযোগে কোনো কারণ ছাড়াই হেলাল ও কামাল দলবদ্ধ হয়ে আমার ১৫-২০টি সুপারি গাছ কেটে বসতঘর তৈরি করছে। আমি প্রশাসনের কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ মুঠোফোনে বলেন, “৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। জায়গা-জমির বিষয়ে পুলিশের সরাসরি কিছু করার নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা মারামারি যেন না হয়, সেজন্য কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটি একটি দেওয়ানি বিষয়, তাই সংক্ষুব্ধ পক্ষকে আদালতের আশ্রয় নিতে হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া আমরা সরাসরি কাজ বন্ধ করতে পারি না।”

আরও পড়ুন