৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পরিণত বাংলাদেশপ্রেমিক নেতা তারেক রহমান

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের অন্তরে স্থায়ী আসন করে নেন। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করে তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে শাহাদাত বরণের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান এবং ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন।

শহীদ জিয়ার সেই আদর্শিক ধারাবাহিকতা দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে আপোষহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে ধারণ করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এই ধারাবাহিকতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরিণত ও দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। শহীদ জিয়ার দেশপ্রেমিক চেতনা এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন মানসিকতা তাঁর নেতৃত্বকে করেছে আরও দৃঢ় ও মানবিক।

২০০৭ সালের ০১/১১ পরবর্তী সময়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তারেক রহমান শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করলেও তিনি দেশের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমান দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশে ও প্রবাসে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে তাঁর সাহসিকতা, ধৈর্য ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তারেক রহমান প্রতিশোধপরায়ণ হবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তিনি তাঁর মায়ের আদর্শ অনুসরণ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ান। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও গভীর হয়।

দীর্ঘ ২১ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন দেশপ্রেমিক জনগণের মাঝে ব্যাপক আবেগ ও প্রত্যাশার সৃষ্টি করে। জনগণ চায় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, বাক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জানমালের নিরাপত্তা—যার প্রতিফলন দেখা যায় তারেক রহমানের ঘোষিত “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” দর্শনে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি এবং বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০-এর আলোকে ঘোষিত তারেক রহমানের “৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের কর্মসূচি” বাংলাদেশকে একটি কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তরের বাস্তব রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষ করে দীর্ঘ ২১ বছর পর বীর চট্টগ্রামে তারেক রহমানের আগমনকে চট্টগ্রামবাসী ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে। বারআউলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রাম আশা করছে—এই আগমন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বাংলাদেশের মানুষ আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছে। “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ই নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ পথচলা।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ