৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিশুর মেধা বিকাশে খেলাধুলা জরুরি : কাদের গনি চৌধুরী

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, জাতির সুস্থতা, আনন্দ ও গৌরব খেলাধুলাতেই নিহিত। তাই জাতীয় জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজন সুস্থ ও আনন্দময় জীবন। খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সোমবার দুপুরে বিপিজেএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইম্পিরিয়াল হোটেলের প্রতিনিধিবৃন্দ।

বিপিজেএ সভাপতি একেএম মহসীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মশিউর রহমান সুমন, জাহিদুল ইসলাম সজল, সালেকুজ্জামান রাজীব, ফরিদ উদ্দীন সিদ্দীকী, মো. সৌরভ, খোকন শিকদার, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সিদ্দিক আল মামুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সুস্থ দেহে সুস্থ মন এই চিরন্তন বাক্যটি আমাদের খেলাধুলার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। খেলাধুলা শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, পেশি মজবুত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। অথচ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি আমরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করে আসছি।

তিনি আরও বলেন, শিশুর বিকাশের মূলে রয়েছে খেলাধুলা। খেলার মাধ্যমে শিশুরা তাদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে জানে, আবেগ প্রকাশ করতে শেখে এবং কৌতুকপূর্ণ মুহূর্তের মধ্য দিয়ে ভাষা ও চিন্তার বিকাশ ঘটায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন আর শিশুদের খুব একটা খেলার মাঠে দেখা যায় না।

তিনি বলেন, ভোর হতে না হতেই শিশুরা বইয়ের বোঝা কাঁধে নিয়ে স্কুল ও কোচিং সেন্টারে ছুটছে। ক্লাস শেষে আবার প্রাইভেট ও কোচিং। পড়াশোনার চাপে শিশুদের বড় একটি অংশ খেলার মাঠে যাওয়ার সুযোগই পাচ্ছে না। অনেকেই মনে করছে খেলাধুলা করে কিছু হবে না, বরং মোবাইল গেম বা টেলিভিশনই ভালো এভাবেই স্মার্টফোন ও আকাশসংস্কৃতি আমাদের আগামী প্রজন্মকে গ্রাস করে ফেলছে।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমরা স্কুল থেকে ফিরে বই রেখে সামান্য কিছু খেয়েই মাঠে ছুটে যেতাম। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি সবই চলত সমানতালে। পরীক্ষার সময়েও কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ত না। বরং যারা খেলাধুলা করত না, তারাই পিছিয়ে পড়ত।

তিনি বলেন, একসময় প্রতিটি স্কুল-কলেজে ধুমধামের সঙ্গে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতো। এখন শহরের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব আয়োজন নেই, কারণ সেখানে খেলার মাঠই নেই। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে শহরের খেলার জায়গাগুলো দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, স্কুল থাকবে, মাঠ থাকবে না এটা কি ভাবা যায়? মাঠের অভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা নেই। শিক্ষার পাশাপাশি এসব চর্চা নিশ্চিত না করলে জাতি শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বছরে দুই-চারটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা থাকলেও তা অবহেলিত, বিশেষ করে কলেজ পর্যায়ে। কলেজে শারীরিক শিক্ষা বিষয় চালু করা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রভাষক পদে উন্নীত করা প্রয়োজন।

বর্তমান প্রজন্মের মোবাইল ফোন আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাঠে না গিয়ে শিক্ষার্থীরা স্ক্রিনে সময় কাটাচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর ফলে ভবিষ্যতে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ জাতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু শিশুদের জন্য নয়, বড়দের জন্যও সমান প্রয়োজন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সময় বের করে খেলাধুলা করা উচিত। পরিবারের সবাইকে খেলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাধ্যবাধকতা নয়, খেলাকে শখ হিসেবে নিলে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে এবং সময় কাটবে আনন্দে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ