৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এনসিটি ইজারা বিরোধী আন্দোলন: চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ বিএনপিপন্থী নেতাকে বদলি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী চার বিএনপিপন্থী শ্রমিকনেতাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

এ আন্দোলনে শনিবার বন্দর অচল হয়ে পড়ার পর তাঁদের চারজনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে বদলি করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কর্মবিরতির কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সব ধরনের পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করেন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক–কর্মচারীরা। বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে ডাকা এ কর্মসূচির কারণে আট ঘণ্টা বন্দরের কার্যক্রম অচল হয়ে ছিল।

এরপর বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার স্বাক্ষরিত আদেশে কর্মবিরতি কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া চারজনকে বদলির আদেশ হয়। এই চারজন হলেন বন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির, নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম এবং প্রকৌশল বিভাগের এস এস খালাসী মো. ফরিদুর রহমান। এই চারজনের প্রথম দুজন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক। অন্য দুজন সংগঠনটির নেতা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বন্দর ভবনে অফিস চলাকালে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন। যেসব কর্মচারী সেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন, তখন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অন্যতম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আন্দোলন করার কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ এই বদলির আদেশ জারি করেছে। আমরা পানগাঁও টার্মিনালে যোগদান করব না। আন্দোলন আরও তীব্র হবে।’

তাঁদের চারজনকে রোববার পূর্বাহ্নে (দুপুর ১২টার আগে) বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। জরুরি দাপ্তরিক এবং অপারেশনাল কাজে তাঁদের বদলি করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

বদলিকৃত কর্মস্থল পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার ভারও বিদেশি কোম্পানিকে দিয়েছে সরকার। এই টার্মিনাল ২২ বছরের জন্য পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেয়েছে সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ। গত নভেম্বরে চুক্তি হয়। মেডলগ পুরো দায়িত্বভার গ্রহণ করলে বন্দরের কোনো কর্মচারীর সেখানে কাজ করার সুযোগ নেই।

দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি

এদিকে কর্মবিরতি কর্মসূচির কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর পরিচালকের (প্রশাসন) এক আদেশে এই ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল) কমোডর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েলকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বন্দর চেয়ারম্যানের নিকট বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ