চট্টগ্রাম শহর ঘেঁষে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেলের দেশ আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৩ আসন।
এ দুই উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, টানেল ও শিল্প অঞ্চল গড়ে ওঠার মতো পরিবেশ থাকায় দেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ না আসলেও প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। নির্বাচনী মাঠে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্ট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ও এনডিএমের প্রার্থীরা।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে এ পর্যন্ত দুই উপজেলায় গ্রামের অলিগলি ও ঘরে ঘরে গিয়ে জনসাধারণের কাছে যার যার প্রতীক নিয়ে ভোটের বার্তা পৌঁছাচ্ছেন প্রার্থীরা।
পাশাপাশি অন্যান্য দলের গোপন ভোট কার পক্ষে যাবে, সেটাও নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন প্রার্থীরা। আবার কৌশলে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগদান করে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।
আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। এ আসনের বিএনপির প্রার্থী তিনবারের সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি সবার কাছে পরিচিত মুখ। তবে এখনো তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের গণসংযোগে অংশগ্রহণ না করায় তুলনামূলকভাবে প্রচারণা চোখে পড়ছে না।
অন্যদিকে বৃহত্তর সুন্নি জোট হওয়ার পর এ আসনে ভোটের মাঠের সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে গেছে। দুই উপজেলার বৃহত্তর সুন্নি জনতা জোট ও বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী এস এম শাহজাহানকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতে এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা।
এদিকে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী আসনে জোর প্রচার-প্রচারণায় রয়েছে জামায়াত। তবে দুই উপজেলার সুন্নি জনতা একজোট হওয়ায়, ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে দাঁড়ানোয় এবং এগারো দলীয় জোটের মধ্যে দশ দলের তেমন সমর্থন না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে জামায়াত প্রার্থী। এদিকে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জোটের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা স্থগিত করার ঘোষণা দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা সেক্রেটারি আবুল হাসান খোকা জানান, দুই-এক দিনের মধ্যে মাঠ গুছিয়ে আনা হবে। প্রতিদিন আসনের দুই উপজেলায় প্রচার-প্রচারণায় ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রার্থী। এছাড়া মহিলারাও ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। শীঘ্রই জোটের প্রধান ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসব। সমন্বয় করে মাঠে নামা হবে।
এদিকে আনোয়ারা-কর্ণফুলী বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের তেমন প্রচারণা নেই। আসনটির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের এক করতে ব্যর্থ তিনি। ফলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রচার-প্রচারণা তেমন দেখা যাচ্ছে না। আসনটির গ্রামের অলিগলি ও ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণারও তেমন দেখা মেলেনি। তবে এ আসনে ধানের শীষের ব্যাপক সমর্থক রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর সমন্বয় না থাকলেও ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থীর পুত্র সাহওয়াজ জামাল নিজাম সনি জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। মাঠ গুছাতে নেতা-কর্মীরা সরব হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে নেতা-কর্মীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঘরে ঘরে, পাড়া-মহল্লায় যাচ্ছেন। বর্তমানে যেখানে যাওয়া হচ্ছে, সেখানে সাড়া পাচ্ছি। বিপুল ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হবে, ইনশা-আল্লাহ।
অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় সরব রয়েছে বৃহত্তর সুন্নি জোট ও বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী এস এম শাহজাহান। তিনি প্রতিদিন আসনটির বিভিন্ন গ্রামের অলিগলিতে গিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
প্রচারণাকালে দেখা যায়, জনসাধারণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তিনি। তাদের প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ার মতো।
জানতে চাইলে মোমবাতি প্রতীকের সমর্থক শাহজাদা মাওলানা আবদুল কাদের চাঁদ মিয়া জানান, বার আউলিয়ার চট্টগ্রামের অন্যতম এলাকা হচ্ছে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা। এ আসনে সুন্নিদের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। এবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্নি জোট নির্বাচনী মাঠে রয়েছে। চারদিকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জনগণ এবার বেছে নেবে মোমবাতি প্রতীককে। এ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সংসদে যাবেন মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী।
এছাড়া এ আসনে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন এনডিএম ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থীরাও। তাদের দাবি, ভোটের আগের দিনও ভোটের সমীকরণ ঘুরে যেতে পারে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটারদের ধারণা পাল্টাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।













