আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সামনে রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা ও নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বান্দরবান জেলার আলীকদমে কর্তব্যরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজিবি একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষাই বিজিবির মূল লক্ষ্য।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জানায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে বাহিনীটি দায়িত্ব পালন করছে। সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বিজিবি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়।
ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্ত ও ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্বুদ্ধকরণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সংযোগ সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট এবং সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ পথগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এ সময় কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
সীমান্ত এলাকায় দিন ও রাতব্যাপী টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্থল টহলের পাশাপাশি মোবাইল প্যাট্রোল এবং কৌশলগত চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনপদে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও চলাচলের ওপর বিশেষ নজর রাখতে গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিজিবি পূর্ণমাত্রায় মোতায়েন রয়েছে। সারাদেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করছে এবং সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম ও লামা উপজেলায় আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)-এর ৯ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সংসদীয় আসন ৩০০-বান্দরবানের আওতাধীন এই দুই উপজেলায় মোট ৬২টি দুর্গম ভোটকেন্দ্রে ৫টি বেইজ ক্যাম্পের মাধ্যমে বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন।
মিডিয়া ব্রিফিং শেষে জনকণ্ঠের সাংবাদিক মেহেদী হাসান রানার এক প্রশ্নের জবাবে আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা থাকবে না। সীমান্ত এলাকায় আগে থেকেই কঠোর ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা নির্বাচনকালীন পুরো সময়জুড়েই বহাল থাকবে। সীমান্তে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করে সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আমাদের সদস্যরা নির্বাচনকেন্দ্রিক অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। নির্বাচন উপলক্ষে বাহিনীর জনবল পুনর্বিন্যাস করা হলেও সীমান্তে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা উভয়ই সমান গুরুত্বের সঙ্গে বজায় রাখা হবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী বলেন,
নির্বাচনকে ঘিরে কোনো মহল যাতে সীমান্ত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।
স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাদের মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন টিম এবং কুইক রেসপন্স ফোর্স সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।













