৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনে বিবেক বিক্রির সুযোগ নেই: রাঙ্গুনিয়ায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে জেলা প্রশাসক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য মতবিনিময় সভা ও দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সততা, পেশাদারিত্ব ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. নাজমুল হাসান।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “নির্বাচনের পবিত্র দায়িত্ব পালনে কোনোভাবেই বিবেক বিক্রির সুযোগ নেই। ভোটকেন্দ্রের কক্ষের ভেতরে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের অন্যতম দায়িত্ব।” তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচন ও গণভোটে সুরক্ষা অ্যাপ, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের গণভোট–সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে; বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পছন্দ বা মত থাকতে পারে, কিন্তু দায়িত্ব পালনের সময় তা প্রকাশ করা যাবে না। ভালোবাসা থাকতে হবে রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি।”

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনকে ঘিরে অপপ্রচার চালাতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি জানান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নির্বাচনে কোনো ধরনের পেশিশক্তির ব্যবহার বরদাশত করা হবে না।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার ও ভিডিপি চট্টগ্রামের পরিচালক ও জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৯২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৬১০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ২২০ জন পোলিং অফিসার অংশ নেন। প্রশিক্ষণে ভোটগ্রহণ আইন, দায়িত্ব ও কর্তব্য, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, ব্যালট ও গণভোট পদ্ধতি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ