২১ মার্চ ২০২৬

আজ ঈদ; উৎসবের আনন্দে দেশ

এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে দেশজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদের প্রধান জামাত। নতুন পোশাক, পারিবারিক মিলনমেলা ও ভালোবাসা ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ এ ধর্মীয় উৎসব।

ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবারের ঈদ:

জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর দেশে উদযাপিত হচ্ছে এবারের ঈদুল ফিতর। ফলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ঈদ পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন—যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে নামাজ আদায় করলেও এবার তিনি জাতীয় ঈদগাহে অংশ নিচ্ছেন। একইভাবে, পূর্বে আলাদাভাবে নামাজ আদায়ের পরিবর্তে রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের একত্রে অংশগ্রহণকে ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী:

ঈদ উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি অর্জন করে এবং অন্যায়-অবিচার থেকে বিরত থাকার শিক্ষা লাভ করে। ঈদের দিনে ধনী-গরিব সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

তিনি আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে ঈদের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিত্তবানদের দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, রমজান সংযম, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়, যা সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করে। ঈদের আনন্দ যেন সবাই মিলে ভাগাভাগি করা হয় এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো হয়—এ আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রামে প্রধান ঈদ জামাতের প্রস্তুতি:

চট্টগ্রাম নগরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। এখানে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—প্রথমটি সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয়টি সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে।

প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ব্যাপক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকায় প্যান্ডেল নির্মাণ, কার্পেটিং, ত্রিপল, ২৫০টি পাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও ৫০টি মাইকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে রাখা হয়েছে একাধিক ফটক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ বাহিনী।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লির উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নগরের বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত:

জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ছাড়াও নগরের বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লালদীঘির পাড়ে চসিক শাহি জামে মসজিদ, হজরত শেখ ফরিদ (রহ.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার চসিক জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদসহ আরও বেশ কয়েকটি স্থান।

উৎসবের আনন্দে দেশ:

নতুন পোশাক, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ। শহর ও গ্রামে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা।

ঈদ শুধু আনন্দের উৎসবই নয়, এটি সাম্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করারও এক অনন্য উপলক্ষ—এই বার্তাই ছড়িয়ে দিচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বাংলাধারার পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

আরও পড়ুন