২ এপ্রিল ২০২৬

শিল্পপতির বাসায় হামলা: এমপি গিয়াস কাদেরের দুই ছেলেসহ ৪ জন ‘ওয়ান্টেড’

রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখল, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের জামিন বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিরা হলেন—সামির কাদের চৌধুরী, শাকির কাদের চৌধুরী, মেরিনা ইরশাদ ও আশিকুর রহমান। সামির ও শাকির এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল জানান, মামলার ধার্য তারিখে ১৫ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে হাজিরা দেন। এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার নিরাপত্তারক্ষী সংসদ অধিবেশনের কারণে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিষয়ে আপত্তি করা হয়নি। তবে অপর চার আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের জামিন বাতিলের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণে ২০০৬ সালে শিল্পপতি মাইনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে চুক্তি করেন।

২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা ভবনটি বুঝে পান। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মাইনুল ইসলামের মৃত্যুর পর থেকে আসামিরা জাল দলিল তৈরি করে ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত ১৪ জুলাই তারা বাসায় প্রবেশ করে তালা ভেঙে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করেন এবং ভুক্তভোগীর কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এছাড়া গত ২৮ আগস্ট পুনরায় বাসায় ঢুকে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করা হয়। এ সময় নগদ ১০ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণ লুট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় গ্যারেজ ভাঙচুর করে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ফারজানা আন্না ইসলাম ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ