৬ এপ্রিল ২০২৬

শিয়ালদহে এক টুকরো বাংলাদেশ: উষ্ণ সংবর্ধনায় বিজয় ৭১ প্রতিনিধিদল

কোলকাতার ব্যস্ত সকাল। ট্রেনের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর প্রতিদিনের ছুটে চলা জীবনের মাঝেই হঠাৎ যেন তৈরি হলো এক ভিন্ন আবহ। শিয়ালদহ রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে তখন ভেসে উঠছে হাসি, করতালি আর ফুলেল শুভেচ্ছার রঙিন দৃশ্য—যেন এক টুকরো বাংলাদেশ এসে মিলেছে কোলকাতার বুকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে আগত ‘বিজয় ৭১’-এর প্রতিনিধি দল পৌঁছাতেই তাদের ঘিরে ধরে উচ্ছ্বাস। নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের খুলনার উপদেষ্টা ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কবি আবু কওছার এবং সম্পাদক সেলিম মাহবুবু। তাদের স্বাগত জানাতে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির অগ্রণী ব্যক্তিত্বরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে সূর্যসম্পদ শিশু সাহিত্যিক আব্দুল করিম, কবি সৈয়দা বেগম, কবি সৌরকর রায়, সম্পাদক শাকিল আহমেদ, সাহিত্যিক বরুণ চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ড. অনিরুদ্ধ পালসহ অনেকেই এগিয়ে আসেন। সঙ্গে ছিলেন পশ্চিম মেদিনিপুরের চন্দ্রকোনা থেকে আগত আর্ট বেঙ্গল সোসাইটির সদস্যরা।

সংবর্ধনার সেই মুহূর্তগুলো ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়—ছিল অনুভূতির বিনিময়। ফুলের তোড়া, উত্তরীয়, বই, ব্যাজ ও সনদ তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে যেন প্রকাশ পেল আন্তরিকতা। একসঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হলো মধ্যাহ্নভোজও—যা শুধু খাবার নয়, ছিল সম্পর্কের উষ্ণতার প্রতীক।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বারবার তুলে ধরেন, ভাষা ও সংস্কৃতি—এই দুই শক্তিই দুই বাংলাকে এক অদৃশ্য বন্ধনে বেঁধে রেখেছে। সীমান্ত থাকলেও হৃদয়ের দূরত্ব নেই—এমন বিশ্বাসই যেন আরও দৃঢ় হলো এই আয়োজনে।

বিজয় ৭১-এর সম্পাদক সেলিম মাহবুবু আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এই সংবর্ধনা কেবল সম্মান নয়, এটি দুই বাংলার মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। এমন আয়োজন ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই উষ্ণতা আর ভালোবাসা সঙ্গে নিয়েই প্রতিনিধি দল পরবর্তী গন্তব্য পশ্চিম মেদিনিপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। কিন্তু শিয়ালদহের সেই মুহূর্ত—ফুলের সুবাস আর মানুষের আন্তরিকতায় ভরা—থেকে যায় স্মৃতির পাতায়, দুই বাংলার চিরন্তন বন্ধনের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে।

আরও পড়ুন