৯ এপ্রিল ২০২৬

আনোয়ারায় ফ্রি ফায়ারে আসক্ত; এমবির টাকার জন্য মাকে পেটাল কিশোর, ভিডিও ভাইরাল

আনোয়ারায় অনলাইন ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে মোবাইল এমবির টাকা না পেয়ে জন্মদাতা মাকে মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত কিশোরের নাম জাবেদ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভিডিওটি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভাইরাল হওয়া এক মিনিট এগারো সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ছেলের হাতে থাকা রান্নার কাজে ব্যবহৃত একটি দা কেড়ে নিতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দস্তাদস্তির একপর্যায়ে মায়ের ওপর হাত তোলে ওই কিশোর। এতে ছেলেকে টাকা দেওয়ার সম্মতি দিলেও শান্ত হয়নি সে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ইন্টারনেটে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই অভিযুক্ত জাবেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল এই ঘটনাকে বর্তমান যুবসমাজের মাদক ও অনলাইন গেম আসক্তির এক ভয়াবহ পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া গ্রামের কালা গাজীর বাড়ির মৃত এয়াকুবের ছেলে মোঃ জাবেদুল ইসলাম (১৭)। ছয় বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছেন মা মরিয়ম বেগম। এর মধ্যে ছেলে জাবেদ অনলাইন ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। গেম খেলতে এমবির টাকার জন্য সবসময় মা-বোনের সঙ্গে গালাগালি ও মারধর করে আসছিল ওই কিশোর।

সর্বশেষ গত বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে গেম খেলতে এমবি কিনতে টাকার জন্য বোনের সঙ্গে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা দা নিয়ে পুরো ঘর কোপাতে চাইলে মা বাধা দিলে পরে মাকে মারধর করতে দেখা যায়।

স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, ভাইরাল হওয়া জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত। বিভিন্ন সময় গেম খেলতে এমবির টাকা না পেয়ে তার মা ও বোনকে মারধর করে আসছে। সমাজের মুরব্বিরা যতক্ষণ শাসন করেন ততক্ষণ ভালো থাকে, এরপর আবারও উশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।

মা মরিয়ম বেগম জানান, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে কিছু টাকা পেলে তা দিয়ে কোনোরকম সংসার চলে। এর মধ্যে একমাত্র ছেলেটি কাজকর্ম করে না। উল্টো গেম খেলতে এমবির টাকার জন্য মারধর করে আসছিল। এতে চরম শঙ্কায় রয়েছি।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে অনলাইন গেমে আসক্তির বিষয়টিই মারধরের মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ