১২ এপ্রিল ২০২৬

আনোয়ারায় আগাম নির্বাচনী তৎপরতা, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

দক্ষিণ চট্টগ্রামে অবস্থিত ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে আনোয়ারা উপজেলা।

এতে স্থানীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন ঘোষণা না হলেও আগাম নির্বাচনী তৎপরতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনের তৎপরতা জোরদার হতে দেখা যাচ্ছে।

গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নীরব প্রস্তুতি থাকলেও বর্তমানে তা প্রকাশ্য প্রচারণায় রূপ নিয়েছে। উপজেলা পরিষদের নির্বাচন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থীদের প্রচারণা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ উপজেলা জুড়ে দৃশ্যমান।

সরকারি দিবস থেকে শুরু করে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক পেইজে ফটোকার্ড, শুভেচ্ছা বার্তা ও প্রচারণামূলক পোস্টের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এতে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে আগাম জনসমর্থন গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তবে এসব কিছু নিয়ে এলাকায় কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে প্রকৃত ও গুজবভিত্তিক প্রচারণার মধ্যে পার্থক্য করা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এমন অনিয়ন্ত্রিত ও মনগড়া প্রচারণা নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশকে বিভ্রান্তিকর করে তুলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মূলধারার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য অনেক ব্যক্তি প্রকাশ্যে প্রচারণা থেকে কিছুটা বিরত রয়েছেন। অনেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচন ঘোষণা ও দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নীরবতা পালন করছেন। অন্যদিকে যারা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানামুখী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, দোয়া মাহফিল, মতবিনিময় সভা, গণসংযোগ এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বার পদে আগ্রহীরা দলীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার এবং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে নিজ নিজ সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে তুলতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশন থেকে এখনো তফসিল ঘোষণা না হলেও আগাম এ তৎপরতা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে অনিয়ন্ত্রিত প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা নির্বাচনী পরিবেশের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘোষণা না হলেও আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে আগাম উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন