১২ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই হত্যা মামলার আসামি ও কোটি টাকার প্রতারক নিজাম উদ্দিন খুলশীতে গ্রেপ্তার

একাধিক প্রতারণা ও ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মামলা

চট্টগ্রাম নগরে গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, ৫ আগস্টের সহিংসতা এবং হত্যা মামলার অভিযোগে অভিযুক্ত মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খুলশী থানা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিস হাসপাতালের পাশের একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানাসহ বিভিন্ন থানায় গণঅভ্যুত্থান চলাকালে হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি নিজেকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সহকারী কিংবা ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিতেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন।

এক ভুক্তভোগী জানান, মন্ত্রীর লোক পরিচয় দিয়ে তার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এমনকি তার গাড়িচালকের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, কম দামে জমি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ২ লাখ টাকা নেওয়ার পর আর যোগাযোগ করেননি নিজাম উদ্দিন। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই নয়, ব্যাংক খাতেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় এক কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা সনদ তৈরি করে দেওয়ার নামেও তিনি প্রতারণা করতেন। এক নারী ভুক্তভোগী জানান, তার স্বামীর জন্য সনদ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দুই দফায় দুই লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান নিজাম উদ্দিন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে ভূমি সংক্রান্ত কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন তিনি। এই পরিচয়ের আড়ালে বিভিন্ন শিল্পপতি ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণা চালানো হতো।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে নারী পাচারের বিষয়টিও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উচ্চ বেতনের চাকরি বা সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের বিদেশে পাচার করা হতো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তবে কৌশলে আত্মগোপনে থেকে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তিনি।

খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, আনোয়ারা থানার একটি প্রতারণা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এক প্রতারক চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন