বাংলাধারা ডেস্ক »
সেতু নির্মাণে মানুষের কাটা মাথা লাগবে- এই গুজবটি দুবাই থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রথম প্রচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।
এছাড়া এ গুজব ছড়ানোর ঘটনায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিদের লিংক পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (২৪ জুলাই) পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
আইজিপি বলেন, একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আন্দোলনসহ নানা উপায় অবলম্বন করে ব্যর্থ হয়ে এখন গুজব ছড়াচ্ছে। তারা দেশের বাইরে থেকেও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
গুজবের ঘটনায় এ পর্যন্ত যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের কয়েকজনের সরকারবিরোধী রাজনীতিক দলের লিংক পেয়েছি। জড়িতদের প্রোফাইল তৈরির কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুপরিকল্পিতভাবে দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রথম যে পোস্টটি আমাদের নজরে আসে সেটি ছিল দুবাই থেকে। দুবাইয়ের এক ব্যক্তি এই পোস্টটি করেন। গুজব ও গণপিটুনির ঘটনায় ৩১টি মামলায় এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাথাকাটার গুজব ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ৬০টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ২৫টি ইউটিউব লিংক এবং ১০টি ওয়েব পোর্টাল বন্ধ করা হয়েছে। এই সমস্ত ফেসবুক ও ইউটিউব লিংকের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছিল। যতগুলো ঘটনা ঘটেছে সবই গুজব।
যারা নিহত হয়েছে কেউই ছেলেধরা ছিল না। সম্প্রতি স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল সৃষ্টি করছে। এগুলো কোনভাবেই কাম্য নয়।
অনেকে না বুঝেই এগুলো শেয়ার করছে, এগুলোতে মন্তব্য করছে। অথচ আমরা এই গণপিটুনির ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখলাম এতে যে ৮ জন মানুষ মারা গেলে তাদের সবাই নিরপরাধ। তাদের কেউই ছেলে ধরা ছিল না।
নেত্রকোনায় ১৮ জুলাই এক শিশুর মাথাকাটাসহ একজনকে ধরে গণপিটুনি দিয়েছিল স্থানীয়রা। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তি রবিন ছিল একজন মাদকাসক্ত। সে ওই শিশুটিকে মারার আগে তাকে বলাৎকার করেছে।
আমরা তদন্ত করে জেনেছি, সে মাদকাসক্ত। সে কয়েকবার তার স্ত্রীর গলা কাটতে চাইছিল। আমরা নিহত শিশুর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করেছি। পারিপার্শ্বিক ঘটনার বিশ্লেষণে আমরা বলতে পারি যে, শিশুটিকে রবিন প্রথমে বলাৎকারের চেষ্টা করে, এরপর শিশুটি এর প্রতিবাদ করতে গেলে সে তাকে হত্যা করে।
বাড্ডায় নারী নিহতের ঘটনাটিও ছেলেধরা ছিল না। ওই নারী তার মেয়েকে স্কুলে ভর্তির জন্য স্কুলে গিয়েছিল। একইভাবে যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জের ঘটনাটিও ব্যক্তিগত বাকবিতণ্ডায় ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার করার কারণে ঘটেছে।
তিনি বলেন, আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা দেখেছি প্রতিটি ঘটনায় ইতিপূর্বেও গুজবকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আমাদের দেশে ‘সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে’ এমন গুজবও ছড়িয়েছে। আমাদের মানুষ খুব সহজ সরল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু পোস্ট হলে, আর সেটি যদি নেগেটিভ হয় তাহলে খুব দ্রুত শত শত লাইক-শেয়ারে ভরে যায়।
এই ঘটনাগুলো পুলিশ সদর দফতরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি।
প্রতি জেলার এসপি, মেট্রোপলিটন পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাট-বাজারে ছোট ছোট আকারে তারা সভা করেছে। প্রতিটি স্কুল-মাদরাসার বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সাদা পোশাকে পুলিশ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আইজিপি বলেন, দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, এই ঘটনাটি একটি গুজব, স্রেফ গুজব। পুলিশ যেকোন প্রয়োজনে আপনাদের সঙ্গে থাকবে। আপনারা কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আমরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছি। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে ভিকটিম না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।
গুজব বন্ধে বৃহস্পতিবার থেকে আমরা সারাদেশে সচেতনতা সপ্তাহ ঘোষণা করছি। এই সচেতনতা সপ্তাহে পুলিশের প্রতিটি সদস্য হাট বাজার, স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় যাবেন। অভিভাবক শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলবেন।
এছাড়াও শুক্রবার জুমা নামাজের আগে প্রতিটি মসজিদের ইমামদের এ বিষয়ে কথা বলতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি/আরইউ












