১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তাল চট্টগ্রাম

‘গ্রাফিতি মোছা হয়নি’— দাবি মেয়রের, ‘ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা’ বলছে এনসিপি

চট্টগ্রাম নগরীতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নগর রাজনীতি।

সোমবার (১৮ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য গ্রাফিতি ইস্যুকে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য আমি কখনো কোনো নির্দেশ দিইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না। এটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

মেয়রের দাবি, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবেই দেয়াল ও পিলারে রং করার কাজ করা হয়। টাইগারপাস এলাকার যেসব পিলারে রং করা হয়েছে, সেগুলো মূলত পোস্টারে ঢেকে ছিল এবং সেখানে দৃশ্যমান কোনো গ্রাফিতি ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছি। জুলাই-আগস্টের চেতনার বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

অন্যদিকে, এনসিপি নেতারা দাবি করছেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবাহী দেয়ালচিত্র মুছে ফেলে সেখানে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু গ্রাফিতি নয়, বরং আন্দোলনের শহীদ ও গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক।

মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. এম আর রহমান মাবরুর বলেন, ‘শহীদের স্মৃতিবাহী দেয়ালচিত্র মুছে ফেলে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্যোগ জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জনগণের আবেগ ও ইতিহাসের চেয়ে কার স্বার্থকে এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে?’

আজ সোমবার টাইগারপাস এলাকায় গ্রাফিতি পুনরায় আঁকতে গেলে এনসিপি কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে পুরো ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিএনপি জড়িত নয়।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র আরও জানান, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারকে সহায়তায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে হলেও আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নান্দনিক গ্রাফিতি আঁকার উদ্যোগ নেব।’

গ্রাফিতি বিতর্ক ঘিরে নগরীতে যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ না হয়, সে জন্য জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর স্বাক্ষর করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জিইসি মোড় থেকে দেওয়ান হাট পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও আশপাশ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ এর ৩০ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী হাসান মো. শওকত আলী, পুলিশ কমিশনার, সিএমপি, চট্টগ্রাম উক্ত স্থানে যেকোনও ধরনের জনসমাবেশ ও মিছিল-মিটিং ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো।

আরও পড়ুন