কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজার সদরের পোকখালীতে হাত-পা বেঁধে চালককে নদীতে ফেলে দিয়ে ইজিবাইক (টমটম) ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ২১ জুলাই রাত ১১ টার দিকে ইউনিয়নের মধ্যম পোকখালী সিকদার পাড়া জনশূন্য কাঠইল্লার কুম এলাকায় এ লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।ভাগ্যক্রমে খালের পাশের বাঁশ ঝাড়ে আটকে ডুবে মরা থেকে প্রাণে বাঁচলেও লুণ্ঠিত টমটমটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে একটু সুস্থ হলে ২৪ জুলাই রাতে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের করেছে প্রাণে বেঁচে যাওয়া টমটম চালক। এরপরই ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
ছিনতাইয়ের শিকার টমটম চালক আনোয়ার হোসেন (২৫) কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও ইউনিয়নের উত্তর মাইজ পাড়ার আবদুল করিমের ছেলে। বৃহত্তর ঈদগাঁওর উপ-সড়ক গুলোতে টমটম চালিয়ে পরিবার চালায় আনোয়ার।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২১ জুলাই সারাদিন টমটম চালিয়ে রাতের ভাড়ায় আনোয়ার চৌফলদন্ডী ব্রীজ এলাকায় যান। রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফেরার জন্য ভাড়ার আসায় সেখানেই অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় অজ্ঞাতনামা এক যাত্রী এসে পশ্চিম পোকখালী যাবার কথা বলে ৩শ টাকায় ভাড়া করে।আনোয়ার তাকে নিয়ে রওনা দেন। টমটম মোক্তার মৌলভীর ব্রীজ এলাকায় পৌঁছলে গাড়ি থামিয়ে আগেট যাত্রীর সাথে অজ্ঞাতনামা আরো ৩জন যাত্রী উঠে। তাদের পৌঁছে দিতে উত্তর পাড়া হয়ে কাঠইল্লার কুম এলাকায় যেতে বলে।
কথা মতো ঐ স্থানে পৌছে কিছু বুঝে উঠার আগে টমটমে থাকা ৪যাত্রী চালক আনোয়ারের মুখ চেপে ধরে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরে জখম করে। প্রহার থেকে বাঁচতে আকুতি জানালে পরনের লুঙ্গিটি খুলে তা ছিড়ে আনোয়ারের হাত-পা বেধে ফেলে যাত্রীবেশী ছিনতাইকারিরা।
পরে তাকে ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীতে পেলে দেয়। ভাগ্যক্রমে সে বাঁশের ঝাড়ে আটকা পড়ে যায়। ছিনতাইকারীরা ব্যাটারী চালিত তার সোয়া লাখ টাকার দামের টমটম, সেদিনের আয় করা টাকা, মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।
আরো উল্লেখ করা হয়, সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ঈদগাঁওস্থ একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করে। ২৪ জুলাই বিকেলে মোটামুটি হাটতে পারার মতো হলে তাকে রিলিজ দেয়া হয়।
অভিযোগে আনোয়ার আরো জানান, ঘটনার পরপরই ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করতে না পারলেও স্বজনরা ব্যাপক খোঁজ খবর নিয়ে ঘটনায় জড়িতদের মাঝে তিন জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। এরা হলেন, পোকখালী ইউনিয়নের পুর্ব পোকখালী সিকদার পাড়া এলাকার আবদুল গনির ছেলে ইমাম হোসেন, নুরুল ইসলামের ছেলে সুমন, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ। অপরজনের পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ এস আই মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, ঘটনাটির অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তদের আটক ও ছিনতাইকৃত টমটম উদ্ধারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












