২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯৮১ দিন পর মাঠে নেমেই রেকর্ড গড়লেন নেইমার

দীর্ঘ ৯৮১ দিন অপেক্ষার পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফিরে নতুন এক রেকর্ডের জন্ম দিলেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার। চোট, অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ফিরে আসা এই ফরোয়ার্ড নিজের প্রত্যাবর্তন ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন।

বিশ্বকাপ মঞ্চে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে সুযোগ পান নেইমার। মাঠে নামার মুহূর্তেই দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ায় আবেগাপ্লুত ছিলেন এই তারকা। তবে আবেগকে ছাপিয়ে ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণভাগে সক্রিয় ছিলেন নেইমার। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয়ে আগের সেই চেনা ছন্দের আভাস দেন। প্রথমার্ধে একটি দৃষ্টিনন্দন অ্যাসিস্ট করে দলের গোলের পথ তৈরি করেন তিনি। পরে দ্বিতীয়ার্ধে নিজেই গোল করে ব্রাজিলকে আরও এগিয়ে নেন।

এই গোলের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে নতুন রেকর্ড। জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন নেইমার। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে নেমে গোল করার বিরল কীর্তিও নিজের করে নেন তিনি। পরিসংখ্যানবিদদের মতে, ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমে গোল করা ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন।

ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, “এই মুহূর্তের জন্য আমি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি। চোটের সময়টা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় ছিল। পরিবার, সতীর্থ এবং সমর্থকদের সমর্থন না পেলে হয়তো ফিরে আসা সম্ভব হতো না। আজকের এই পারফরম্যান্স তাদের জন্য উৎসর্গ করছি।”

ব্রাজিলের কোচও নেইমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। তিনি বলেন, “নেইমার শুধু একজন খেলোয়াড় নন, তিনি দলের অনুপ্রেরণা। এতদিন মাঠের বাইরে থাকার পরও যেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। আজকের ম্যাচে সে দেখিয়ে দিয়েছে কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলা হয়।”

নেইমারের প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল সমর্থকরাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসায় ভাসছেন ভক্তরা। অনেকেই এই প্রত্যাবর্তনকে ‘দ্বিতীয় জন্ম’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, নেইমারের উপস্থিতি ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাতে নতুন করে সাহস জোগাবে।

চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকলেও নিজের সামর্থ্য যে এতটুকুও কমেনি, সেটিই যেন প্রমাণ করলেন নেইমার। ৯৮১ দিনের অপেক্ষার পর ফিরে এসে রেকর্ড গড়া এই তারকা আবারও জানিয়ে দিলেন—সমালোচনা, বাধা কিংবা দুর্ভাগ্য তাকে থামিয়ে রাখতে পারে না। বরং প্রতিটি প্রত্যাবর্তনেই তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসেন।

ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে তাই নেইমারের এই ম্যাচ শুধু একটি জয় নয়, বরং এক নতুন আশার নাম। বিশ্বকাপের বাকি পথচলায় তার পারফরম্যান্সই হতে পারে সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

আরও পড়ুন