চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত ভবনে এখনও চলছে পাঠদান ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে ভবনগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাধীনতার পূর্বে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির কয়েকটি ভবনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, দেয়াল দেবে যাওয়া, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া, ভাঙা জানালার কাচ এবং পিলারের রড বেরিয়ে থাকার দৃশ্য চোখে পড়ে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে এবং শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি জমে থাকে।
শিক্ষার্থীরা জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবন দুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিলেও সেখানে এখনও ক্লাস, টেস্ট পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভবনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে ক্লাস করতে গেলেই ভয় কাজ করে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।’
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ করছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে কলেজ প্রশাসনের তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কলেজের দুটি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেগুলো ব্যবহার না করার জন্য বলা হয়েছে। তবে যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে ভবন দুটি পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব।’
অন্যদিকে, গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সুব্রত বরণ বড়ুয়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান ও পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, বাণিজ্য ও কলা ভবনে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্রুত এসব ভবন পরিত্যাগ করে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান তারা।
এদিকে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।














