চট্টগ্রামের রাউজানে নির্মাণাধীন একটি সেফটি ট্যাংকিতে কাজ করতে নেমে অসুস্থ হয়ে পড়া এক রাজমিস্ত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়ে শালা-দুলাভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই রাজমিস্ত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকুটি পাড়া এলাকার শুকলাল মাস্টারের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন গ্রামের মৃত নিমাই দাশের ছেলে প্রদীপ দাশ (৩৮) এবং বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখীল ইউনিয়নের মৃত বিশ্বেশ্বর দাশের ছেলে সমীরণ দাশ (২৮)। সম্পর্কে তারা দুলাভাই-শালা। আহত রাজমিস্ত্রী শাহ আলমকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতের শাশুড়ি মিনতি দাশ জানান, প্রায় দেড় মাস আগে নির্মাণ করা সেফটি ট্যাংকির ভেতরে শুক্রবার দুপুরে কাজ করতে নামেন রাজমিস্ত্রী শাহ আলম। কিছুক্ষণ পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। বিষয়টি দেখে তাকে উদ্ধারে প্রদীপ দাশ ট্যাংকিতে নেমে শাহ আলমকে ওপরে তুলতে সক্ষম হলেও নিজেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে প্রদীপকে উদ্ধার করতে সমীরণ দাশ ট্যাংকিতে নামলে তিনিও অচেতন হয়ে যান। খবর পেয়ে রাউজান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে উদ্ধার করেন।
কার্তিক দাশের বোন কল্পনা দাশ বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে কার্তিক দাশ মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী মিনতি দাশ ঋণ নিয়ে নতুন ঘর নির্মাণ করছিলেন। কাজ চলাকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
রাউজানের নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনিসুজ্জামান জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে তিনজনকে পথেরহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রদীপ দাশ ও সমীরণ দাশকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা সেফটি ট্যাংকির ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না থাকায় সেখানে বিষাক্ত গ্যাস—যেমন হাইড্রোজেন সালফাইড, মিথেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড— জমে যায় এবং অক্সিজেনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।














