চট্টগ্রামের কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে পবিত্র শোহাদায়ে কারবালা (রা.) স্মরণে ৭৪তম আশুরা মাহফিল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাদ জোহর থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলা এ মাহফিলে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত, আশেকান ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে দরবার প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের মহাসচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে বক্তব্য দেন মাননীয় মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব।
প্রধান মেহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, যুগে যুগে মানুষকে হেদায়েতের জন্য অসংখ্য নবী-রাসূল পৃথিবীতে আগমন করেছেন। হযরত মুহাম্মদ (দ.) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। তাঁর পর আউলিয়ায়ে কেরামগণ মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, হযরত গাউছুল আজম (রা.) এমন একটি তরিক্বত প্রবর্তন করেছেন, যেখানে কুরআন ও সুন্নাহর কোনো ব্যত্যয় নেই। এ তরিক্বতের মূল বিষয় হলো প্রিয় নবী (দ.)-এর প্রতি পূর্ণ এত্তেবা ও ভালোবাসা।


তিনি আরও বলেন, আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ শোহাদায়ে কারবালা স্মরণ করা হয় এবং কারবালার ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার অনন্য শিক্ষা।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর বলেন, কারবালার আত্মত্যাগ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি ইসলামের চিরন্তন আদর্শ ও মূল্যবোধ রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে এ শিক্ষাকে পৌঁছে দিতে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আয়োজনের বিকল্প নেই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জালাল আহমদ বলেন, পবিত্র আশুরা ও কারবালার শিক্ষা মুসলিম সমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ. মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম বলেন, ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত ইসলামের মৌলিক আদর্শ রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুসলমানদের উচিত তাঁর আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা।
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সবুর বলেন, কারবালার ঘটনা আমাদের ধৈর্য, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার শিক্ষা দেয়। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে এ শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী ফয়সাল বলেন, বর্তমান সময়ে বিভ্রান্তি ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে উত্তরণের জন্য আউলিয়ায়ে কেরামের আদর্শ অনুসরণ এবং কুরআন-সুন্নাহর পথে চলার বিকল্প নেই।
মাহফিলে মিলাদ ও কিয়াম শেষে শুক্রবার ভোর ৪টায় প্রধান মেহমান দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রা.)-এর ফুয়ুজাত কামনাও করা হয়।














