২৫ অক্টোবর ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, স্থবির জনজীবন

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের সাক্ষী হলো চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নগরে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। টানা অতি ভারী বর্ষণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, সড়ক ধস এবং যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

অতি বৃষ্টিতে পতেঙ্গা এলাকায় উড়ালসড়ক নির্মাণকাজের জন্য তৈরি একটি বাইপাস সড়কের অংশ ধসে পড়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান জানান, চলতি মৌসুমে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। সম্প্রতি সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর সম্মিলিত প্রভাবে বৃষ্টির তীব্রতা বেড়েছে। আগামী অন্তত এক সপ্তাহ চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি জানান।

এদিকে টানা বর্ষণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে সড়কে পড়েছে, কোথাও পানি জমে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।

তিনি জানান, হিজড়া খাল, জামাল খান খাল, আজব বাহার খাল ও গুলজার খালসহ বিভিন্ন খালে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এবং সিটি করপোরেশন যৌথভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। বৃষ্টি থামলে নিচু এলাকাগুলোর পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীন ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মঙ্গলবারের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা জানান, পরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম বিভাগে আগামী কয়েকদিন থেমে থেমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন