টানা ভারী বৃষ্টি ও কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং প্লাবিত হয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারো উপজেলার বৈরাগ ও চাতরী ইউনিয়ন।
বৈরাগ ইউনিয়নের মেরিন একাডেমি ও সিইউএফএল সড়কে এই জলাবদ্ধতা ইতিহাসের নজিরবিহীন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহের ব্রাদার্সের অব্যবস্থাপনাকে এই জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছেন তারা।
সিইউএফএল সড়কের পাশে বয়ে যাওয়া খালের পানি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। একই সাথে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মেরিন একাডেমি সড়ক প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
এতে চাতরী বৈলচূড়া, সুজামল্লাপাড়া, পাঁচ সিকদার বাড়ি, গুয়াপঞ্চক, বৈরাগ, মোহাম্মদপুর, বদলপুরা, শাহমীরপুর ও উত্তর বন্দরসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেইপিজেডের পাহাড়ের ঢলের পানিতে সিইউএফএল সড়ক ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে এবং সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কালভার্টের বাঁধ অপসারণ না করায় আশপাশের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে কান্দুরিয়া খালের খননকৃত শেষ অংশের বৈলচূড়া এলাকায় খননকাজে রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি করে পরিপূর্ণ খনন না করায় পানি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকাংশে দোকান ও বাঁশের বাগান রেখে দিয়েই কাজ সম্পন্ন করে চলে গেছে ঠিকাদার। এতে করে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ কোমর সমান পানি মাড়িয়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে যেতে দেখা গেছে। একাধিক গ্রামে পানি প্রবেশ করায় মানুষ নিজ বাড়িতেই পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় শতাধিক পরিবার পানির নিচে তলিয়ে থাকা ঘরে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কান্দুরিয়া খাল খননে স্বজনপ্রীতি এবং সিইউএফএল সড়কের পশ্চিম পাশে পাঁচ সিকদার বাড়ি সংলগ্ন কালভার্টের কাজের ধীরগতি ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ সময়মতো অপসারণ না করায় কেইপিজেড থেকে নেমে আসা ঢলের পানি আটকে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চলমান সড়ক উন্নয়নকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহের ব্রাদার্সের গাফিলতিকেই এর জন্য দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলেই সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যা ঘরবাড়ি ও সড়ক তলিয়ে দিয়ে এলাকাটিকে দুর্ভোগের কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স তাহের ব্রাদার্সের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুন্না বলেন, “হঠাৎ করেই প্রবল ঢলে মেরিন একাডেমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি আমাদের কাজের আওতাভুক্ত না হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করেছি। সিইউএফএল সড়কের কালভার্টের বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী অংশে খালটি সংকীর্ণ হওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না।”
কেইপিজেডের ডিজিএম মুশফিকুর রহমান বলেন, “এবারের বৃষ্টিপাত গত ৩৫ বছরের মধ্যে নজিরবিহীন। মেরিন একাডেমি সড়কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কালভার্ট নির্মাণকাজ করছে। সেখানে আমাদের সীমানা প্রাচীরেরও একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেইপিজেডের বাইরে কোথাও পানি জমে সমস্যা হলে তা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।”














