চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ‘অলকা সড়ক’। সড়কটি আজ অবহেলা আর দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতায় জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বামনসুন্দর সড়কের মোটবাড়িয়া থেকে মিঠানালা ভোরের বাজার হয়ে সুফিয়া সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি শুধু একটি এলাকার যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি আবুতোরাব বাজার হয়ে মিরসরাইয়ের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে বিস্তৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মিঠানালা ভোরের বাজারে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের অধিকাংশ অংশ পাকা হলেও ভোরের বাজারের উত্তরাংশে সারেং বাড়ি থেকে সুফিয়া সড়ক পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খানাখন্দ, বড় বড় গর্ত এবং ভাঙাচোরা অংশে ভরে যাওয়ায় সড়কটি এখন কার্যত যান চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের কারণে ছোট যানবাহন তো দূরের কথা, মোটরসাইকেল চালাতেও চরম ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। বর্ষাকালে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, রোগী এবং ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাত্র দেড় কিলোমিটার সড়কের দুরবস্থার কারণে ১০ হাজার বেশি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে একসময়ের প্রাণচঞ্চল ও ঐতিহ্যবাহী মিঠানালা ভোরের বাজারও ক্রমে গুরুত্ব হারাতে বসেছে। সপ্তাহে তিন দিন বসা এই হাটে একসময় দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা সমবেত হলেও বর্তমানে নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেকেই বাজারে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, এই সড়ক দিয়ে ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিরসরাই সফর করেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও সড়কটির অবশিষ্ট অংশের উন্নয়ন হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথ আজ এলাকাবাসীর জন্য একপ্রকার অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, সড়কটির দুরবস্থার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে সড়কটির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকারের সময়েও যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় অর্থনীতি ও ঐতিহ্যবাহী ভোরের বাজারের অস্তিত্ব আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করবে এবং দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটাবে।














