২৫ অক্টোবর ২০২৬

চকলেটের প্রলোভনে অপহরণ, ধর্ষণচেষ্টা শেষে হত্যা— বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরা (৮) হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার দায়ে বাবু শেখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ফলে সব মিলিয়ে আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট সারোয়ার লাভলু বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। এটি একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের বিচার। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনে অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হবে।

মামলার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবু শেখ চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শ্বাসনালী কেটে হত্যা করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে পুলিশ বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ করে আদালত রায় ঘোষণা করেন। দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিহত শিশু ইরার স্বজনরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।

আরও পড়ুন