বাংলাধারা ডেস্ক »
নারায়ণগঞ্জে ভূঁইঘর এলাকার আল আরাফা রাইস মিল সংলগ্ন দারুল হুদা আল ইসলাম মহিলা মাদ্রাসার মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান জসিম ছাত্রীদেরকে আখিরাতের ভয় দেখিয়ে হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গোনা হবে এবং জাহান্নামে যাবে এ রকম নানা ফতোয়ার মাধ্যমে ধর্ষণ করতো বলে প্রাথমিকভাবে শিকার করে।
গ্রেপ্তারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ দারুল হুদা মহিলা মাদরাসার ১১ ছাত্রীকে বিগত ৩ বছর ধরে মাদরাসায় তার রুমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ধ’র্ষণ, ধ’র্ষণের চেষ্টা ও যৌ’ন হয়রানি করে আসছে এবং এই অপকর্মের পর সেইসব ছাত্রীদের কেউ কেউ মুখ খোলার চেষ্টা করলে তাদের একেক জনকে একেক অপবাদ দিয়ে মাদরাসা থেকে বের করে দেয়।
এ ভাবে সে বিভিন্ন বয়সী মাদরাসার ছাত্রীদের কখনো বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আবার কখনো জোরপূর্বক ধ’র্ষণ করত। সে ছাত্রীদেরকে কখনো আখিরাতের ভয় দেখিয়ে হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গোনা হবে এবং জাহান্নামে যাবে এ রকম নানা ফতোয়ার মাধ্যমে, তাবিজ করে পাগল করা বা পরিবারের ক্ষতি করার কথা বলে ছাত্রীদের ধ’র্ষণ করত বলে স্বীকার করে।
এমনকি তার ৮ বছর বয়সী নিকটাত্মীয় যে তার মাদরাসায় পড়ত তাকেও একাধিকবার ধ’র্ষণ করেছে বলে ভিকটিম এর মা-বাবা অভিযোগ করে যা ধ’র্ষক অকপটে স্বীকার করে। এ ছাড়াও ধ’র্ষক মোস্তাফিজ নিজেই বিভিন্ন জাল হাদিস তৈরি করে হুজুরের সাথে সম্পর্ক করা জায়েজ আছে বলে ছাত্রীদের বলত।
একটি জাল হাদিসের মাধ্যমে অভিভাবক ও স্বাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় বলে একাধিক ছাত্রীকে কৌশলে ধ’র্ষণ করার পর আরেকটি জাল হাদিসের মাধ্যমে তালাক হয়ে গেছে ফতোয়া দিয়ে মাদরাসা থেকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বের করে দিত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৬ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও আরো ৫ ছাত্রীকে ধ’র্ষণের চেষ্টা ও যৌ’ন হয়রানির কথা স্বীকার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, জসিমের ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসার সাবেক দুই ছাত্রী র্যাব ১১-এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গতকাল দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জসিমের লালসা থেকে রেহাই পায়নি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তার আপন ভাতিজিও। এ পর্যন্ত তার লালসার শিকার ৪ ছাত্রী সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জসিমের লালসার শিকার যারা হয়েছে, তারা মাদ্রাসার তৃতীয় থেকে আলিম শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী।
ঘটনার শিকার আলিম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, জসিম মাদ্রাসার ছোট মেয়েদের দিয়ে তার অফিস কক্ষে টার্গেট করা ছাত্রীদের ডেকে নিতেন। এর পর টুকটাক কাজ করার কথা বলে কৌশলে রুমের দরজা আটকে দিতেন এবং পেছন থেকে জড়িয়ে ধরতেন। এর পর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করতেন। ধর্ষণ শেষে এসব ঘটনা কাউকে না জানাতে শাসিয়ে ছেড়ে দিতেন।
এর আগে ছাত্রীদের ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৭ জুন সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাইস্কুলের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম এবং গত ৪ জুলাই ফতুল্লার মাহমুদনগর এলাকায় বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি












