৩১ মার্চ ২০২৬

ঘাটতি মোকাবিলায় আগেভাগেই আসছে গরু

তারেক মাহমুদ »

পবিত্র ঈদ-উল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কোরবানি পশুর বাজারগুলোতে চলছে প্রস্তুতি। সেই সাথে আগেভাগে বিভিন্ন বাজারে আসতে শুরু করেছে কোরবানি পশুর। আগেভাগেই মজুদ করে রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে জানা ব্যবসায়ীরা।

দিন যত ঘনিয়ে আসবে তত জমে উঠবে গরুবাজার। তবে চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর সংকট হবে না বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামে এবার ৭ লাখ ২১ হাজারের মতো পশু কোরবানি দেয়া হতে পারে। এরমধ্যে খামারে উৎপাদিত সর্বমোট ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি কোরবানিযোগ্য পশু চট্টগ্রামের বাজারে তোলা হবে। সে হিসাবে ১ লাখ ১১ হাজারের মতো পশুর ঘাটতি হতে পারে। ঘাটতি মোকাবিলায় আগেভাগে কোরবানির পশু এনে মজুত করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক চৌধুরী বলেন, কোরবানিতে চট্টগ্রামে গবাদিপশুর সংকট হবে না। চাহিদা অনুযায়ী গবাদিপশুর যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। বিগত বছরে কোরবানি পশুর চাহিদা ছিল ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার। এবারে রয়েছে ৭ লক্ষ ২০ হাজার। ৬ লক্ষ ১০ হাজার গবাদি পশু মজুদ রয়েছে। চট্টগ্রাম যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা, সেটা বিবেচনায় রেখে চট্টগ্রাম ছাড়াও আশেপাশের কয়েকটি জেলা থেকে ২ লক্ষের মতো পশু আসবে। যে কারণে গবাদিপশুর সংকট হবার তেমন কারণ নেই।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদে দেশের উত্তারাঞ্চল, নোয়াখালী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে লালন-পালন করা অসংখ্য গরু, মহিষ ও ছাগল চট্টগ্রামের বাজারে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। ফলে চট্টগ্রামের বাজারেও কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

চট্টগ্রামের সাগরিকা গরু বাজারের ইজারাদার মোহাম্মদ সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর বলেন, কোরবানির জন্য গরু-মহিষ আনার কাজ শুরু হয়েছে। চাঁপাই নবাবগঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ, নওগাঁ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা বাজারে গরু আনা শুরু করেছেন।

চট্টগ্রামের বিবিরহাটের গরু ব্যবসায়ী আকবর হোসেন জানান, ঈদুল আজহার প্রায় আরো এক মাস বাকি রয়েছে। তবুও আগে-ভাগে চট্টগ্রামের বাজারে গরু আসতে শুরু করেছে। কোরবানির বেচা কেনা শুরু না হলেও চট্টগ্রামের বাজারে গরুর মজুত গড়ে তোলার জন্যই মূলত দেশের নানা স্থান থেকে গরু মহিষসহ বিভিন্ন ধরনের পশু আনা হচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী মো. হারুন জানান, কোরবানির দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের বাজারে পশু আসার মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। গরু মহিষ ছাগল ভেড়ার পাশাপাশি এবার বিপুলসংখ্যক উটও চট্টগ্রামের বাজারে আসবে বলে উল্লেখ করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী।

তারা বলেছেন, ঢাকা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি উটের খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে বেশকিছু উট কোরবানির বাজারে বিক্রি করা হবে। আগে ভাগে নিয়ে আসলে এগুলোর লালন-পালন কঠিন হবে বিধায় আনা হচ্ছে না। তবে কোরবানির চাঁদ ওঠার আগেই ঢাকা থেকে উটগুলোকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হবে।

সাতকানিয়ার খামারি আরিফ আফজালি বলেন, দেশে পশু পালন খাতে নীরবে বিপ্লব ঘটে গেছে। এ বিপ্লবের ফসল ঘরে তুলতে হলে আমাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।

তিনি বলেন, শত শত শিক্ষিত বেকার ছেলে আজ খামার প্রতিষ্ঠা করেছে। আমাদের দেশীয় এই খাতকে রক্ষা করতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। কোরবান উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের অসস্থায়ী তিনটি বাজারে টানা ১০ দিন পশু বিক্রি হবে। সেগুলো হলো কর্ণফুলী পশুর বাজার (নূরনগর হাউজিং), পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, কাঠগড় পশুর বাজার, কমল মহাজন হাট পশুর বাজার। এছাড়াও স্থায়ী পশুর বাজার আছে দুটি। বিবির হাট ও সাগরিকা। বিবিরহাট প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এবং সাগরিকা বাজার প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বসলেও কোরবান উপলক্ষে এসব বাজারে প্রতিদিনই পশু বিকিকিনি হবে।

কোরবানির জন্য হৃষ্টপুষ্ট পশুর চাহিদা থাকে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে থাকে স্থানীয় জাতের লালগরু বা রেড ক্যাটল অব চিটাগং। এবারো এর ব্যতিক্রম হবে না। গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েডসহ বিভিন্ন ওষুধ খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণের কারণে মানুষের মধ্যে দেশি জাতের গরু কোরবানি দেয়ার আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন।

কোরবানির বাজারে প্রতিটি লালগরু অন্যজাতের গরুর চেয়ে ১৫-২০ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়। এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে ওঠা খামারিদের থেকেও এবার গরুর চাহিদা মেটানো যাবে বলে ধারণা করছেন ক্রেতারা।

আনোয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশ, পটিয়া ও সাতকানিয়া লোহাগাড়া এলাকার গরুর খামারিরা কোরবানি সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করেছেন। তবে এসব এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, মিয়ানমার বা ভারতের গরু না আসলে এবার ভালো গরু পাবে ক্রেতারা।

মিল্কভিটার পরিচালক নাজিম উদ্দীন হায়দার বলেন, কোরবানি সামনে রেখে আমরা গরু মোটাতাজা করছি। তবে যে হারে গোখাদ্যের দাম বেড়েছে, তাতে বাইরের গরু আসলে আমাদের অনেক লোকসান হবে। অন্য সময় দেশের বাইরে থেকে গরু এসেছে। এবারও মিয়ানমার থেকে টেকনাফ হয়ে প্রতিদিন গরু আসছে। সেটি বন্ধ করতে না পারলে ক্ষুদ্র খামারিরা লোকসানে পড়বে। যদি এবারও তারা লোকসানে পড়ে, তাহলে খামারি ব্যবসা দাঁড়াতে পারবে না।

উল্লেখ্য, নগরীর বড়পুল ও পতেঙ্গার বাটারফ্লাই পার্কের সন্নিকটে আরো দুইটি অস্থায়ী বাজার বসানোর চেষ্টা চলছে। তবে এই দুইটি বাজার বসানোর চেষ্টাকে উদ্দেশ্যমূলক বলে আখ্যায়িত করে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যে দুইটি করে বাজার দেয়া হলে ইতিপূর্বেকার বাজারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যা বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

আরও পড়ুন