বাসার চুলায় আগুন নেই, রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। অন্যদিকে গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিএনজি স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। একইসঙ্গে শিল্পকারখানা, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি স্টেশনেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা ও দুর্ভোগ।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়াসা মোড়ের এস এইচ খাঁন এন্ড সন্স সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন, কদমতলী এলাকার ফোর স্টার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, বাকলিয়ার কর্ণফুলী ফিলিং স্টেশন, মইজ্জারটেক এলাকার শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং কামাল ব্রাদার্স সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাবেই চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রান্নার গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার দৈনন্দিন খাবার প্রস্তুত করতে পারছেন না। কেউ কেউ নিরাপত্তার ঝুঁকি জেনেও বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন, আবার অনেকেই বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন।
নগরীর জামালখান লেনের বাসিন্দা নন্দীতা রানি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সকাল থেকেই গ্যাস থাকে না। রোববার সকাল ৭টার পর গ্যাস চলে যায়। সন্ধ্যার পরও চাপ খুব কম থাকে, রাত ১২টার দিকে টিমটিম করে জ্বলে।’
আসকার দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা কামরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, ‘সকালে গ্যাস আসে খুব কম। বাসার সবার জন্য রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে এনেছি।’
আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। নগরের মইজ্জারটেক এলাকার শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন চট্টগ্রাম–বদরখালী রুটের সিএনজি অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আগে ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই গ্যাস পেতাম। এখন দুই ঘণ্টা ধরে রোদে দাঁড়িয়ে আছি। কখন গ্যাস পাবো জানি না। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টায় গ্যাস বিক্রিও বন্ধ হয়ে যাবে।’
কেজিডিসিএল’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) রফিক খান বলেন, ‘গত ১০ দিন ধরেই গ্যাস সংকট চলছে। ছুটির দিনে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য আরও খারাপ হওয়ায় পরিস্থিতি তীব্র হয়েছে। শনিবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের প্রায় সব এলাকাই সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’














