১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্ধেক যেত বিদেশে পলাতক সাজ্জাদের কাছে

রিমান্ডে ডেভিড ইমনের চাঞ্চল্যকর তথ্য, মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইমন প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতেন। এর মধ্যে ৫০ লাখ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো, ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হতো সহযোগীদের পেছনে এবং বাকি অর্থ নিজের কাছে রাখতেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুলাই যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফটিকছড়ি থানার হত্যা ও অস্ত্র আইনের দুই মামলায় আদালত তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে দিলে জেলা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানান, প্রথমে ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো। শুধু ব্যবসার তথ্য নয়, পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দৈনন্দিন রুটিন এবং ব্যক্তিগত তথ্যও সংগ্রহ করতেন তাঁর সহযোগীরা। এরপর বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হতো।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ফোনে ভুক্তভোগীর পোশাকের রঙ পর্যন্ত বলে দেওয়া হতো, যাতে তারা বুঝতে পারেন যে তাদের ওপর নজরদারি চলছে। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর কিংবা ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হতো। এভাবেই মাসে কোটি টাকার চাঁদা আদায় করা হতো বলে ইমন স্বীকার করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এতদিন চাঁদাবাজির প্রকৃত পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি, কারণ অধিকাংশ ভুক্তভোগী ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার কারণে থানায় অভিযোগ করতেন না। অনেকেই সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়ে দিতেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, রিমান্ডে ইমন জানিয়েছেন যে আদায়কৃত টাকার অর্ধেক বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হতো। বাকি অর্থের একটি অংশ সহযোগীদের মধ্যে বণ্টন করা হতো এবং অবশিষ্ট টাকা তিনি নিজে রাখতেন। এই অর্থ কার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, রিমান্ডে ইমন দাবি করেছেন, তাঁর প্রায় এক হাজার সহযোগী রয়েছে, যাদের মাধ্যমে তিনি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। এ তথ্যও যাচাই-বাছাই করছে তদন্তকারী সংস্থা।

অন্যদিকে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ চাঁদাবাজির ৫০ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইমন এখন পুলিশের হেফাজতে আছে। পুলিশ অনেক কথাই বলবে।’

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন ইমন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। পরে সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগীতে পরিণত হন তিনি।

২০২৫ সালে বাকলিয়ার জোড়া খুন, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন আলোচিত সন্ত্রাসী ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন