১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেইপিজেডে সংঘর্ষের তিন মাস পর গ্রেপ্তার ‘গাছখেকো’ সালাউদ্দিন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া, হামলা ও ভাঙচুরের আলোচিত ঘটনার প্রায় তিন মাস পর মামলার ২ নম্বর আসামি মো. সালাউদ্দিন ওরফে ‘গাছখেকো’ সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার কেইপিজেড এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য সুত্রের দাবি, তিনি স্বেচ্ছায় ধরা দিয়েছেন

গ্রেপ্তার হওয়া সালাউদ্দিন (৩০) কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহমীরপুর গ্রামের রাজ্জাকপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে থানার সেকেন্ড অফিসার তীথংকর দাস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে জানানো হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে কেইপিজেড প্রধান ফটক এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি সালাউদ্দিন।

ওই সময় সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাঁশের লাঠি, ইট ও ভাঙা কাচের টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। পুলিশের প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও তাকে একজন সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার সেকেন্ড অফিসার তীথংকর দাস বলেন, ‘সালাউদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে আপনাদের জানানো হবে।’

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার হয়েছে, বিষয়টি গোপন করার কিছু নেই। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলা, ২০২৪ সালের একটি চুরি ও চোরাই মালামাল সংক্রান্ত মামলা এবং ২০২১ ও ২০২২ সালে দায়ের হওয়া হত্যা চেষ্টা, সংঘবদ্ধ হামলা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মারধর, চুরি, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা আরও তিনটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন