বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। বন্যাকবলিত মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়তার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের কাছে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ. এম. অহিদুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন।
চেক হস্তান্তরকালে ডা. কিউ. এম. অহিদুল আলম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অত্যন্ত কষ্টদায়ক। এই সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক নয়, মানবিক দায়িত্বও। বন্যার্তদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া এ অনুদান আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দুর্গত মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব।
চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন বলেন, বন্যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। ঘরবাড়ি, জীবিকা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে অনেক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে দেওয়া মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা, ত্রাণ সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে আসা সহযোগিতাও দুর্গত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এই সহায়তা বন্যাকবলিত মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলো মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আরও বেশি করে এগিয়ে এলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অংশগ্রহণ রয়েছে। বন্যার মতো দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।














