বকেয়া রাজস্ব আদায়, অবৈধ পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ বন্ধে কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। বকেয়া বিল আদায়ে রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত আটটি মনিটরিং টিম প্রতিদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার হিসাব অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কাছে সংস্থাটির বকেয়া রয়েছে ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আর সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে বকেয়া রয়েছে ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা।
বকেয়া রাজস্ব আদায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক ও মিটার পরিদর্শকদের সমন্বয়ে এসব মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। দলগুলোর কার্যক্রম তদারক করছেন ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ)।
চট্টগ্রাম ওয়াসা জানিয়েছে, ৫০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিল পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে বকেয়া আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কেউ বিল পরিশোধে অস্বীকৃতি জানালে বিধি অনুযায়ী সংযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
১৫ লাখ টাকা বকেয়া, তিন সংযোগ বিচ্ছিন্ন
বকেয়া আদায় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৬ আগস্ট নগরীর বিমানবন্দর সড়কের বন্দরটিলা এলাকায় মো. জসিম উদ্দিন নামের এক গ্রাহকের তিনটি পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ওয়াসা।
ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ওই তিনটি সংযোগের বিপরীতে বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। একই গ্রাহকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পানি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
অবৈধ সংযোগে জরিমানা
বকেয়া আদায়ের পাশাপাশি অবৈধ পানির সংযোগের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। অনুমতি ছাড়া সংযোগ নেওয়া গ্রাহকদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হচ্ছে।
ওয়াসা জানিয়েছে, অবৈধ সংযোগের কারণে সংস্থার সিস্টেম লস বাড়ছে। তাই জরিমানা দেওয়ার পর অবৈধ গ্রাহকদের বৈধ গ্রাহক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে সিস্টেম লস কমবে, অন্যদিকে ওয়াসার রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপেও অভিযান
অনুমোদন ছাড়া স্থাপন করা গভীর নলকূপের বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করেছে ওয়াসা। লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ চিহ্নিত করে বন্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হচ্ছে।
ওয়াসার আইন অনুযায়ী জরিমানা পরিশোধ করে লাইসেন্স গ্রহণের মাধ্যমে এসব নলকূপ বৈধ করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জনসচেতনতায় মাইকিং-লিফলেট
বকেয়া বিল পরিশোধে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে জুলাই মাস থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
সংস্থাটি বলছে, পানির বিল সরকারের রাজস্বের অংশ। তাই বকেয়া বিল মওকুফের সুযোগ নেই। গ্রাহকদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করে ওয়াসার সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওয়াসা বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বদ্ধপরিকর। ডিএমডি (অর্থ)-এর তদারকিতে আটটি মনিটরিং টিম জোরালোভাবে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘বকেয়া গ্রাহকদের কাছে অনুরোধ, এটি সরকারের রাজস্ব— মওকুফ করার সুযোগ নেই। সবাই বিল পরিশোধ করে ওয়াসার সেবা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করুন।’
অবৈধ সংযোগ ও লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বৈধ গ্রাহক হওয়ার এবং গভীর নলকূপের লাইসেন্স নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা জানিয়েছে, বকেয়া রাজস্ব আদায়, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের বিরুদ্ধে এ কার্যক্রম সামনে আরও জোরদার করা হবে।












